নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও রায়গঞ্জ: মোবাইল চুরির অপবাদে রবীন্দ্রনগরে শিশু শ্রমিককে নির্যাতনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কারখানার মালিক শাহেনশা ওরফে শামসের আলমকে মহারাষ্ট্রের থানে থেকে গ্রেপ্তার করল ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিস। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার দাদা ফিরোজ আলম ও তাদের নাবালক ভাগ্নেকে। এই ভাগ্নেই ওই শিশু শ্রমিককে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল করেছিল। নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন জায়গায় গা-ঢাকা দিয়ে তারা থানে পালিয়েছিল বলে খবর। মোবাইলের সূত্র ধরে তাদের ভিন রাজ্যে লুকিয়ে থাকার খবর পায় ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার এসওজি টিম। তিনজনকেই ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তবে এতসবের মধ্যেও এখনও খোঁজ মেলেনি নির্যাতিত শিশু শ্রমিকের। ওই নির্যাতিত নাবালক এখন কোথায়, শাহেনশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চলছে।
এর আগে এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার হয় মোস্তাফা কামাল ও তৌহিদ আলম নামে সন্তোষপুরের কারখানার দুই কর্মী। দীর্ঘ জেরায় ভেঙে পড়ে তদন্তকারীদের তারা জানায়, নাবালককে মারধরের পর তারা একসঙ্গে সবাই বেরিয়েছিল। কারখানা মালিক শাহেনশা তাদের বলে সবাইকে আলাদা আলাদা জায়গায় পালিয়ে থাকতে হবে। যাতে পুলিস তাদের একসঙ্গে খুঁজে না পায়। তবে তাদের মধ্যে মেসেজে যোগাযোগ ছিল। ওই মেসেজের সূত্র ধরে শাহেনশা কোন নম্বর ব্যবহার করছে সেটি হাতে আসে তদন্তকারীদের। তার টাওয়ার লোকেশন থেকে জানা যায় ঘটনার পর তারা কলকাতা লাগোয়া এলাকায় ছিল। বর্তমানে মহারাষ্ট্রে রয়েছে। সেই সূত্র ধরে এসওজি টিম রওনা দেয় থানেতে। সেখান থেকে শাহেনশা, ফিরোজ ও তাদের নাবালক ভাগ্নেকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাদের ছবি পুলিস ভিডিও কল করে দেখায় ইসলামপুরে নাবালকের পরিবারকে। তাঁরা সবাইকে শনাক্ত করেন।
শাহেনশা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিসকে জানিয়েছে, তার মোবাইল ফোনটি যে ওই শিশু শ্রমিক চুরি করেছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে সেটি ধরা পড়ে। এরপর কর্মীদের বলে ওই কিশোরকে উল্টো করে ঝোলাতে। প্রথমে সে মারধর শুরু করে। বিদ্যুতের শক দিচ্ছিল ফিরোজ। গোটা ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করে তার নাবালক ভাগ্নে। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ভাগ্নে। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই তারা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পালিয়ে যায় কারখানা থেকে। কিন্তু ওই নাবালক কোথায় পুলিসের এই প্রশ্নে বারবার বয়ান পাল্টায় শাহেনশা। কখন সে জানায় কারখানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর কোথায় গিয়েছে ওই শিশু শ্রমিক, তাদের জানা নেই। পরে বয়ান বদল করে বলে গাড়িতে তোলার পর তাকে মাঝ রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর জানা নেই কী হয়েছে। যদিও পুলিসের অনুমান, তাকে খুন করে হয় পুঁতে দেওয়া হয়েছে নাহলে অন্যত্র ফেলে দিয়েছে অভিযুক্তরা। যে কারণে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কলকাতায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করে নাবালকের খোঁজ পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এই নিয়ে কিশোরের বাবা বলেন পুলিস অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে ভালো কাজ করেছে। শাহেনশা বলতে পারবে ছেলে কোথায় রয়েছে। ছেলে ফিরে আসার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। বৃহস্পতিবার ওই নাবালকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল ও ব্লক সভাপতি জাকির হুসেন। অন্য দল ও সংগঠনও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।