


বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: নতুন পিএফ গ্রাহক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার নিয়মে বদল আনল কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে ‘ফেস অথেন্টিকেশন’-এর মাধ্যমে আধার যাচাই করে তৈরি হবে নতুন ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর বা ইউএএন। প্রত্যেক পিএফ গ্রাহকের একটি নির্দিষ্ট নম্বর থাকে, যা পিএফ সংক্রান্ত যাবতীয় পরিষেবা পেতে কাজে লাগে। সেটিই ইউএএন। ইপিএফও (এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন) জানিয়েছে, এখন থেকে আধার যাচাইকরণের মাধ্যমেই নতুন ইউএএন মিলবে এবং তা হবে শুধুমাত্র ‘ফেস অথেন্টিকেশন’ প্রযুক্তির মাধ্যমে। অর্থাৎ হাতের আঙুলের ছাপ বা চোখের মণির ছবির উপর ভরসা নয়, হবে মুখমণ্ডলের ছবি যাচাই। যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুধুমাত্র উমঙ্গ অ্যাপের মাধ্যমেই হবে। পিএফ অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে পুরনো যে নিয়ম চালু ছিল, তা ব্যতিক্রমী কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে গ্রাহ্য হবে।
কেন এই নিয়ম চালু হচ্ছে? দপ্তরের কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, ১ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’। পিএফ খাতে ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে কর্মদাতা সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করে সংগঠিত ক্ষেত্রে প্রায় তিন কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এই প্রকল্প আনা হয়েছে। এই প্রকল্পে কেন্দ্র প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এই টাকা আত্মসাতের জন্য কারচুপি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁদের দাবি, আগেও নরেন্দ্র মোদির সরকার ‘আত্মনির্ভর ভারত রোজগার যোজনা’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেছিল। করোনাকালে শুরু হওয়া সেই প্রকল্পেও নতুন পিএফ গ্রাহকদের জন্য বড় অঙ্কের ভর্তুকি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বেশ কিছু সংস্থা নকল নথির সাহায্যে সরকারকে দেখায়, তারা ‘নতুন কর্মী’ নিয়োগ করেছে। এরপর সরকারের থেকে ভর্তুকির টাকা আত্মসাৎ করে তারা। বাস্তবে কোনও নতুন চাকরি বা নয়া পিএফ গ্রাহক হয়নি। একের পর এক এরকম ঘটনা সামনে আসতেই কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এবার নয়া পদক্ষেপ। কোনও সংস্থা এই প্রকল্পের সুযোগ না নিলেও তাদের কর্মীদের জন্য নতুন পিএফ অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে নয়া নিয়মেই।
প্রসঙ্গত, মোদি জমানায় পিএফ ‘কেলেঙ্কারি’ নতুন নয়! করোনার আগে ‘প্রধানমন্ত্রী রোজগার প্রোৎসাহন যোজনা’ নামে আরও একটি প্রকল্প আনা হয়েছিল। সেখানেও ভর্তুকি দেওয়ার কথা জানিয়েছিল সরকার। সেক্ষেত্রে এমন তথ্য সামনে আসে যে ন’লক্ষ নতুন পিএফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে হয়। সেবার বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল। এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্র। দপ্তরের কর্তারা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক কর্মী এবং নেপাল ও ভুটানে কর্মরত ভারতীয় কর্মীদের ক্ষেত্রে পুরনো পদ্ধতিতে পিএফ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ইপিএফও’র কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের সদস্য এস পি তিওয়ারি বলেন, ‘কিছু সংস্থা সরকারি ভর্তুকির সুবিধা নিতে ছলনার আশ্রয় নেয়। বর্তমান কর্মীদের কাগজেকলমে নতুন নিয়োগ দেখিয়ে সরকারি সুবিধা আদায় করে অনেক সংস্থা। আমাদের দাবি ছিল, আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এমন অসাধু কারবার রোখা হোক। ফেস অথেন্টিকেশন তেমনই একটি পদক্ষেপ।’