


তেহরান (পিটিআই): তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংহেলাব স্ট্রিট ধরে কিছুটা হাঁটলেই ফিরদৌসি স্কোয়ার। ইরানের পতাকা নিয়ে হাজির কাতারে কাতারে মানুষ। হাতে হাতে আয়াতোল্লা ও মোজতবা খামেনেইয়ের ছবি। সেখানে বার্ষিক জেরুজালেম দিবসের জমায়েত। তবে এটুকু বললে কিছুই বলা হয় না। এই জমায়েত আসলে স্পর্ধার প্রতীক। দেশের বর্তমান শাসক ও সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থনের প্রতীক। সাধারণ জনতার মধ্যেই সেই ভিড়ে মিশে খামেনেইপন্থী প্রথম সারির আধিকারিকরাও। শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিক আলি লারিজানি থেকে বিচার বিভাগের মাথা বলে পরিচিত কট্টরপন্থী মৌলবি গোলাম হোসেন মোহসেনি ইজেহি... কে নেই! ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের হুমকিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে এ যেন শক্তি প্রদর্শনের গণমঞ্চ। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবারের নামাজের পর ফিরদৌসি স্কোয়ারে জেরুজালেম দিবস পালনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এমনিতেই শুক্রবার সকালে তেহরানের ঘুম ভেঙেছে মার্কিন-ইজরায়েলি এয়ার স্ট্রাইকের একের পর এক বিস্ফোরণে। তার উপর ইজরায়েলি সেনা ফার্সিতে লেখা হুমকি সতর্কতা প্রকাশ করে। ইংহেলাব স্ট্রিট সংলগ্ন গোটা এলাকার ম্যাপ প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এখানে অভিযান শুরু হবে। প্রাণহানির আশঙ্কা এড়াতে দয়া করে এলাকা খালি করে ফিরে যান। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব না দিয়ে ভিড় বাড়তে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিড়ে ঠাসা এলাকা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। তার মধ্যেই আতঙ্কিত জনতা স্লোগান দিতে থাকে— ‘আমেরিকার-ইজরায়েলের মৃত্যু চাই!’ ইরানি চ্যানেলগুলির ফুটেজে সেই চিত্র ধরা পড়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকেই প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার ‘জেরুজালেম দিবস’ পালিত হয়ে আসছে তেহরানে। তবে, মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার আবহে এবারের জমায়েত ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্পের চোখরাঙানি উপেক্ষা করেল হওয়া জমায়েতের মধ্যেই বিস্ফোরণে হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সংখ্যাটা ঠিক কত, সরকারিভাব স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। তেহরানে এই বিস্ফোরণের ঠিক আগে হামলার মুখে পড়ে ইরানের আরেক শহর কাজভিনও। সেখানেও একইভাবে এয়ার স্ট্রাইকের আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছিল ইজরায়েল।