নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নজিরবিহীন নির্বাচন প্রক্রিয়া! স্বাধীনতার পর থেকে এযাবৎ কোনো বিধানসভা ভোটে নির্বাচন কমিশনের এই মাত্রায় সক্রিয়তা দেখেনি কলকাতা। ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন রয়েছে ৫০ হাজারের বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। রাস্তায় টহল দিচ্ছে সাঁজোয়া গাড়ি ‘মার্কসম্যান’। মোড়ে মোড়ে স্ট্যাটিক সার্ভেইলেন্স টিম। শহরজুড়ে কড়া নজরদারি রাখছে ফ্লাইং স্কোয়াড টিম। কেন্দ্রীয় সরকারের নথিতে কলকাতা দেশের ‘নিরাপদতম’ শহরের তকমা পেলেও কমিশন অবশ্য ততটা সুরক্ষিত বলে মনে করছে না! তাই বড়ো রাস্তার পর এবার কমিশনের নজরে শহরের অলিগলি। সেই সূত্রে ভোট পরিচালকদের নয়া দাওয়াই, হাজারের বেশি অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা। কোথায় লাগানো হবে সেগুলি? তার জন্য কমিশন কলকাতার ৭০০টি গলিকে ‘উত্তেজনাপ্রবণ’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এই মর্মে কলকাতা পুলিশকে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা উত্তর জেলা নির্বাচনি আধিকারিকের অধীনে রয়েছে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র। উত্তর কলকাতায় অলিগলির সংখ্যাও বেশি। লালবাজার সূত্রে খবর, এই সাতটি বিধানসভার মোট ২৫০টি গলি ‘উত্তেজনাপ্রবণ’ বলে চিহ্নিত করেছে কমিশন। এন্টালি, শ্যামপুকুর, মানিকতলা, বেলেঘাটা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে এরকম গলির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। সংশ্লিষ্ট থানার কাছে বিধানসভা ভিত্তিক চিহ্নিত গলির তালিকা ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে। ভোটগ্রহণের আগেই সাড়ে ৩০০-র বেশি অস্থায়ী ক্যামেরা ‘ইনস্টল’ করা হবে। রবিবার রাত থেকে সেই কাজ শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, উত্তর কলকাতায় সাতটি বিধানসভার প্রায় ৭৩ শতাংশ বুথকে ইতিমধ্যে ‘অতি-স্পর্শকাতর’ বলে ঘোষণা করেছে কমিশন। এখন বুথ সংলগ্ন গলিতেও ‘সিঁদুরে মেঘ’ দেখছে কমিশন!
অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার ক্ষেত্রে ৪টি বিধানসভার ১০০ শতাংশ বুথই ‘অতি-স্পর্শকাতর’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। ভবানীপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ ও কলকাতা বন্দর—এই চার বিধানসভা এলাকায় এবার ৪৫০টি গলিকে ‘উত্তেজনাপ্রবণ’ বলে চিহ্নিত করেছে কমিশন। এসব অলিগলিতে ৬৫০টির বেশি ক্যামেরা ‘ইনস্টল’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও উত্তর কলকাতার চেয়ে দক্ষিণ কলকাতার অলিগলির সংখ্যা অনেক কম। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতিটি বুথের ৫০০ মিটারের মধ্যে সমস্ত গলিতেই থাকবে নজরদারি। ‘অতি স্পর্শকাতর’ বুথগুলির আশপাশের গলিতে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। কমিশনের কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি নজরদারি চলবে। নির্বাচনের দিন সেখানে কোনো অবৈধ জমায়েত বা রাজনৈতিক পতাকা ও দলীয় কর্মী থাকলেই স্থানীয় পুলিশকে জানাবে কমিশন।
প্রসঙ্গত, কমিশনের তরফে এবার জেলা নির্বাচনি আধিকারিকরাই রাস্তায় নেমে ভোটারদের মনোবল চাঙা করার দায়িত্ব নিয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যাতেও দক্ষিণ কলকাতা জেলা নির্বাচনি আধিকারিক রণধীর কুমারের নেতৃত্বে ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স’নেওয়া হয়। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শনে যান তিনি। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিশাল পুলিশ বাহিনী।