Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্মী গুলিতে জখম, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

ফের গুলি চলল রাতের শহরে। ঘটনাস্থল গড়িয়ার বোড়াল। রবিবার রাতের ঘটনায় জখম হয়েছেন সিদ্ধার্থ দাস নামে এক যুবক।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্মী  গুলিতে জখম, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
  • ৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের গুলি চলল রাতের শহরে। ঘটনাস্থল গড়িয়ার বোড়াল। রবিবার রাতের ঘটনায় জখম হয়েছেন সিদ্ধার্থ দাস নামে এক যুবক। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর এলাকা কার তা নিয়ে বাঁশদ্রোণী ও নরেন্দ্রপুর থানার মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। দু’টি থানাই দাবি করে, ঘটনাস্থল তাদের এলাকায় পড়ে না। তাই মামলা রুজু করতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের হস্তক্ষেপে সমস্যা মেটে। নরেন্দ্রপুর থানা মামলা রুজু করতে রাজি হয়। গুলি চালানোর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সানি ওরফে অরিজিৎ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করেছে থানা। 

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত সিদ্ধার্থ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থায় কাজ করেন। রবিবার একটু দেরি করে বাড়ি ফিরেছিলেন। তাঁকে ফোন করে বোড়াল শ্মশান ঘাট সংলগ্ন জায়গায় আসতে বলে সানি। দুজনেই একে অপরের পরিচিত ছিল। তাঁরা মদ খাওয়ার পরিকল্পনা করে। সেইমতো সেখানে হাজির হন সিদ্ধার্থ। অভিযোগ, মদ খাওয়ার সময় সানি তাঁর কাছে টাকা চায়। কিন্তু ওই যুবক টাকা দিতে রাজি হননি। এই সময় কোমরে থাকা পিস্তল বের করে সানি। সেটি থেকে গুলি চালাতে গেলে কেড়ে নিতে যায় সিদ্ধার্থ। এই নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। আচমকা দুটি গুলি চালায় সানি। সিদ্ধার্থের কোমরের নীচে ও পেটের কাছে দুটি গুলি লাগে। তারপরেও তিনি দমে না গিয়ে পিস্তলটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁকে গুলি করে সেখান থেকে পালিয়ে যায় সানি। বাড়িতে ফোন করে তিনি ঘটনার কথা জানান। পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভরতি করেন। সেখানে তিনি চিকিসাধীন।
হাসপাতালের মাধ্যমে গুলি চলার খবর যায় নরেন্দ্রপুর থানায়। থানার অফিসাররা হাসপাতালে এসে যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন, গুলি চালিয়েছে সানি। বোড়াল এলাকার শ্মশান ঘাটের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে। এলাকা খতিয়ে দেখার পর নরেন্দ্রপুর থানা দাবি করে, ওই এলাকা বাঁশদ্রোণী থানার মধ্যে পড়ে। কলকাতা পুলিশের অফিসাররা সেখানে পৌঁছন। তারা দাবি করেন, ঘটনাস্থল তাঁদের নয়। এটি নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্ভুক্ত। মামলা কে রুজু করবে এই নিয়ে রীতিমতো টানা হেঁচড়া চলে। রাতে গুলি চললেও দুই থানার টালবাহানায় সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত কেস রুজু করা যায়নি। শেষে আসরে নামেন পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। যৌথ পরিদর্শনের পর নরেন্দ্রপুর থানা মামলা রুজু করতে রাজি হয়। সিদ্ধার্থর মা অভিযোগ করলে গুলি চালিয়ে খুনের মামলা শুরু করে নরেন্দ্রপুর থানা। তাঁর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয় সানিকে। জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সে ওই এলাকার একটি দুষ্কৃতী দলের সঙ্গে কাজ করে। দলের পান্ডার কথায় সে গুলি চালিয়েছে সিদ্ধার্থর উপর। কারণ সিদ্ধার্থ তাদের পালটা গোষ্ঠীর লোকজনের সঙ্গে ওঠাবসা করে। বিরুদ্ধ গোষ্ঠীকে শায়েস্তা করতেই সিদ্ধার্থর উপর গুলি চালিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ