Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘সমস্ত নথি জমার পরও নাম তোলার লাইনে দাঁড়ালাম!’কমিশনের তুঘলকিতে ক্ষুব্ধ জনতা

কেউ শুনানিতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা করেছিলেন। কেউ আবার শুনানিতে ডাক না পেলেও নিজের নাম খুঁজে পাচ্ছেন না চূড়ান্ত তালিকায়।

‘সমস্ত নথি জমার পরও নাম তোলার লাইনে দাঁড়ালাম!’কমিশনের তুঘলকিতে ক্ষুব্ধ জনতা
  • ৩ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেউ শুনানিতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা করেছিলেন। কেউ আবার শুনানিতে ডাক না পেলেও নিজের নাম খুঁজে পাচ্ছেন না চূড়ান্ত তালিকায়। দিব্যি বেঁচেবর্তে থকেলেও কমিশনের চোখে ‘মৃত’! তেমন ভোটারও তালিকা থেকে ‘ডিলিটেড’! নির্বাচন কমিশনের এই ‘তুঘলকি’ কাণ্ডকারখানায় জেরবার এমন অসংখ্য নাগরিক। অগত্যা তাঁরা বাধ্য হয়ে আবার লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। বুথে বুথে ফর্ম ৬ তোলার লাইন। কাউন্সিলারদের দুয়ারে ভিড় জমাচ্ছে উদ্বিগ্ন জনতা। কলকাতা থেকে শহরতলি, লাগোয়া বিভিন্ন জেলায় ছবিটা এক।

Advertisement

মানিকতলা বিধানসভার ২২৩ নম্বর পার্টের ‘ডিলিটেড’ ভোটার বসাকবাগানের শানু বসাক, বিজয় রায় তালিকায় নতুন করে নাম তোলার জন্য সোমবার ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন। ক্ষুব্ধ বিজয় রায় বলছিলেন, ‘আমি কি অনুপ্রবেশকারী নাকি রোহিঙ্গা? প্রথমে ভেবেছিলাম, ভালোই তো হচ্ছে, ভোটার লিস্ট স্বচ্ছ হবে। এটা তার নমুনা? বৈধ ভোটারের নাম কেটে দিচ্ছে। শুনানিতে লাইনে দাঁড়িয়ে সমস্ত নথি জমা করেছি। তারপর আবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে! মানুষকে নিয়ে মশকরা চলছে যেন।’ শানু বসাক বলেন, ‘এটা স্রেফ হয়রানি ছাড়া আর কিছু নয়। পাবলিককে লাইনে দাঁড় করিয়ে অত্যাচার করছে। আবার ফর্ম জমা করেছি বাধ্য হয়ে।’
শহরজুড়ে এমন ভোগান্তির উদাহরণ অজস্র। মানিকতলা, চৌরঙ্গী, ভবানীপুর, কসবা, কলকাতা বন্দর, বেহালা পূর্ব ও পশ্চিম—সর্বত্র বহু মানুষ নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনার শিকার বলে অভিযোগ। ফোনের পর ফোনে দিশাহারা কাউন্সিলাররা। বিএলওদের কাছেও দরবার করছেন অনেকে। কেউ কেই অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণ করছেন। অনেকে ফর্ম পূরণ করে দাঁড়িয়েছেন জেশপ বিল্ডিংয়ে দীর্ঘ লাইনে। সবারই চোখেমুখে উদ্বেগ-ক্ষোভ। তাঁদের একটাই প্রশ্ন, ‘এর পরেও নামটা তুলবে তো?’ 
এদিকে, ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণ করতে গিয়েও সমস্যায় পড়ছেন বলে জানা গিয়েছে। সোমবার সকাল থেকে সার্ভার ডাউন ছিল। বারাকপুরের বিভিন্ন জায়গায় দুর্ভোগের ছবি সামনে এসেছে। জেলাশাসকের অফিসে ফর্ম জমা করতে এসেছিলেন বহু মানুষ। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত সার্ভার ডাউন থাকায় অনলাইনে যাঁরা ফর্ম ৬ পূরণ করছিলেন, তাঁরা বিস্তর সমস্যায় পড়েন। 
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে জেলাশাসকের দপ্তরে হাজার হাজার মানুষের লম্বা লাইন। কেউ এসেছেন বসিরহাট থেকে তো কেউ বনগাঁ। তাঁদেরও প্রশ্ন, শুনানিতে কমিশন নির্দিষ্ট একাধিক বৈধ নথি জমা দেওয়ার পরও কোন আক্কেলে তাদের নাম কেটে দেওয়া হল? কোনো পরিবারের ছ’জনের সবারই নাম কাটা পড়েছে। কোনো পরিবারে আবার অভিভাবক বাদে বাকি সবার নাম উঠেছে তালিকায়। এরকম অজস্র দুর্ভোগের চিত্র ছড়িয়ে রয়েছে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে। তাই এদিন কাউন্সিলার থেকে শুরু করে বিএলওদের বাড়ির সামনে বা জেলাশাসক কার্যালয়ে উদ্বিগ্ন জনতার ভিড় একযোগে কাঠগড়ায় তুলেছে এসআইআরের নামে নির্বাচন কমিশনের ‘তুঘলকি’ মনোভাবকেই। 

সম্পর্কিত সংবাদ