


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: পুরোহিত ডেকে, নারকেল ফাটিয়ে সল্টলেকের ভাঙা রাস্তা সংস্কারের শুভারম্ভ হয়েছিল! বেশিরভাগ রাস্তার উপর পড়েছিল কালো পিচের প্রলেপ। ঢাকা পড়েছিল রাস্তার অজস্র গর্ত। কিন্তু, সল্টলেকবাসীর এই ‘সুখ’ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সংস্কারের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই ফের গর্ত ফিরে এসেছে। একাধিক রাস্তার উপর চাঁদের দক্ষিণ পৃষ্ঠদেশের মতো বড় বড় গর্ত! গাড়ি-বাইক চালানো দুরূহ হয়ে উঠছে। ই-রিকশ চাপলে মনে হবে ঘোড়ার পিঠে চড়ে দৌড়াচ্ছেন! শুধু সল্টলেক নয়, রাজারহাট, নারায়ণপুর, বাগুইআটি সহ বিধাননগর পুরসভার বেশিরভাগ এলাকাতেই রাস্তাঘাটের এই দশা। নারায়ণপুরে বৃষ্টির জলে বহু রাস্তা এখন কার্যত জলাশয়ের চেহারা পেয়েছে।
দফায় দফায় সংস্কার, প্যাচওয়ার্ক চললেও ব্রডওয়ে ছাড়া সল্টলেকের ভিতরের রাস্তার হাল প্রায়শ খারাপ হয়ে যায়। বেশ কয়েকমাস আগে সল্টলেকের রাস্তাঘাট এমনই বেহাল হয়ে পড়েছিল যে মুখ্যমন্ত্রীকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। তারপরই মার্চ মাস থেকে সংস্কার শুরু হয়। বিধাননগর পুরসভার মোট ৪১টি ওয়ার্ড। এর মধ্যে সল্টলেক তথা বিধাননগর বিধানসভায় রয়েছে ১৪টি ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডগুলির রাস্তা সংস্কারের জন্য জন্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। গত ৩ মার্চ ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপট্টি থেকে রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু হয়েছিল।
সেই পর্বে বেশিরভাগ রাস্তারই সংস্কার হয়েছে। দু’মাস আগে অনেক রাস্তার কাজ হয়ে গিয়েছে। কিছু রাস্তার কাজ এখনও চলছে। বাসিন্দাদের কথায়, যে রাস্তাগুলি মাত্র দু’মাস আগে সংস্কার হয়েছিল, সেই রাস্তায় ফের গর্ত তৈরি হয়েছে। সিজিও কমপ্লেক্সের সামনে, বিধাননগর উত্তর থানার সামনে, পূর্তভবনের কাছে এইচ সি ব্লকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের পাশে, আইবি, বি ডি ব্লক সহ নানা জায়গার এই অবস্থা। এছাড়া, বিধাননগর পুরসভার অন্তর্গত রাজারহাট, বাগুইআটি, কেষ্টপুর, নারায়ণপুরের একধিক রাস্তার অবস্থাও শোচনীয়। মাইকেলনগর থেকে বিমানবন্দরের পাঁচিলের পাশ দিয়ে যে রাস্তা কৈখালি গিয়েছে, সেই রাস্তায় বড় বড় গর্তে জল জমে এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সর্বত্রই আম জনতার দুর্ভোগের ছবি।
রাস্তার দায়িত্বে রয়েছেন বিধাননগর পুরসভার ডেপুটি মেয়র অনিতা মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘সল্টলেকের রাস্তা সংস্কার হয়েছে। কিছু জায়গায় কাজ বাকি রয়েছে। আসলে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে বিটুমিন উঠে গিয়েছে। কিছু জায়গায় আবার গর্ত তৈরি হয়েছে। আমরা সেগুলি চিহ্নিত করব। পুজোর আগে প্যাচওয়ার্ক করে ওই গর্ত বুজিয়ে দেওয়া হবে। কোনও সমস্যা থাকবে না।’