Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাক্যে নয়, ঐক্যে জোর দিন, নেতাদের কড়া বার্তা অভিষেকের

শনিবার শালতোড়ার সভামঞ্চ থেকে নেমে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতা-নেত্রীদের একজোট হয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাক্যে নয়, ঐক্যে জোর দিন, নেতাদের কড়া বার্তা অভিষেকের
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শনিবার শালতোড়ার সভামঞ্চ থেকে নেমে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতা-নেত্রীদের একজোট হয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। ওইদিন তিনি বাঁকুড়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের সঙ্গে কথা বলেন। এসআইআর ও বিরোধীদের মোকাবিলায় একজোট হয়ে কাজ করার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। দলের অন্দরে কেউ ঘোঁট পাকালে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এর আগে বড়জোড়ার দলীয় সভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের জেলা সভাপতি, চেয়ারম্যানদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তারপর ফের অভিষেক অন্তর্কলহ নিয়ে বার্তা দেওয়ায় জেলা তৃণমূলের অন্দরে বিষয়টি নিয়ে চর্চা হচ্ছে।

Advertisement

বাঁকুড়া জেলা পরিষদের এক কর্মাধ্যক্ষ বলেন, অভিষেকবাবু আমাদের একজোট হয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশিত পথে আমরা চলব। তবে দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবেই  কাজ করছেন। 
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ায় দীর্ঘদিন ধরে‌ই গোষ্ঠী কোন্দলে তৃণমূল কংগ্রেস জর্জরিত হয়ে রয়েছে। অন্তর্কলহ মেটাতে জেলাস্তরে তৃণমূলের হেভিওয়েটদের কোনও উদ্যোগ নিতে সচরাচর দেখা যায় না। উল্টে জেলা নেতৃত্বের একাংশ কোন্দলে মদত দিয়েছে বলে কর্মীরা অভিযোগ তোলেন। ফলে ব্লক ও অঞ্চলস্তরে এখনও তৃণমূলের অন্দরে একাধিক ‘লবি’ রয়েছে। এসআইআর নিয়ে দলের সংকটজনক অবস্থাতেও তৃণমূল নেতাদের একাংশ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত ছিলেন বলে দলেরই কর্মীরা অভিযোগ তোলেন। সেই খবর তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে। সেই কারণে বড়জোড়ার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী দলের জেলাস্তরের শীর্ষ পদাধিকারীদের হুঁশিয়ারি দেন। সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বর্তমানে দলের তৃণমূলস্তরের খোঁজখবর রাখছেন। ফলে তিনিও এসআইআর নিয়ে জেলার নেতানেত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের একজোট হয়ে চলার বার্তা দিয়ে গিয়েছেন।  
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জঙ্গলমহলের এক তৃণমূল নেতা বলেন, দলের জেলা নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি করতেই ব্যস্ত রয়েছে। তাঁরা নিজেদের আখের গোছাতে দিনভর ব্যস্ত থাকেন। দল নিয়ে ভাববার সময় তাঁদের নেই। আমরা মাঠে ময়দানে কাজ করি। দিনরাত কর্মীদের পাশে থাকি। আমরাই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হই। কখন কোন নেতা ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে রয়েছেন, তা বুঝে সংগঠন চালাতে হয়। জেলাস্তরের নেতাদের বিপক্ষ শিবিরের সঙ্গে থাকলে লাঞ্ছিত হতে হয়। তখন পদাধিকারীরা পাত্তা দেন না। 
জেলা পরিষদের এক সদস্য বলেন, জনপ্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি দলের কাজও আমাদের করতে হয়। দু’দিক সামলে চলতে অনেক সময় সমস্যা হয়। কারণ আমাদের ব্যালেন্স করে চলতে হয়। উপরে থাকা নেতানেত্রীদের মধ্যে ক্ষমতা দখলের অদৃশ্য লড়াই চলে। আমরা অনেক সময় দাবার বোরে হয়ে যাই। অভিষেকবাবু বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। দলীয় অনুশাসন মেনে কাজ না করলে তিনি যে রেয়াত করবেন না, তা শালতোড়ার সভামঞ্চ থেকে নেমে ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ