Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিশিষ্ট চিকিৎসক মণি ছেত্রীর জীবনাবসান

প্রয়াত কিংবদন্তি চিকিৎসক মণি ছেত্রী। রবিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার বালিগঞ্জ ফাঁড়ির বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর।

বিশিষ্ট চিকিৎসক মণি ছেত্রীর জীবনাবসান
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:০৪

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রয়াত কিংবদন্তি চিকিৎসক মণি ছেত্রী। রবিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার বালিগঞ্জ ফাঁড়ির বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর। পদ্মশ্রী প্রাপক প্রথিতযশা চিকিৎসকের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমেছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের তরফে রাতেই শোকজ্ঞাপন করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ দিন আগে তিনি বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান। সাব ডুরাল হেমাটোমা হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসার পর দিন পাঁচেক আগে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন।

Advertisement

১৯২০ সালের ২৩ মে দার্জিলিংয়ে জন্ম মণি ছেত্রীর। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস, এমডি ও এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জনের পর ধাপে ধাপে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে ওঠেন। লন্ডনে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পঠনপাঠন শেষ করে কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। শুধু বিশিষ্ট চিকিৎসক নন, চিকিৎসক-শিক্ষক ও হাসপাতাল প্রশাসনেরও তাঁর নেতৃত্ব ও যোগ্যতার স্বাক্ষর বহন করে চলেছেন অগণিত চিকিৎসক। তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে সার্জন-সুপারিনটেনডেন্ট, আইপিজিএমইআর-এ কার্ডিওলজি ও মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর-ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করেছেন। ১৯৭৪ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন। সরকারি হাসপাতাল থেকে অবসর নেওয়ার পর আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান চর্চার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শহরের নবতিপর বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বিরল প্রতিভাকে হারালাম। অসম্ভব ভালো রোগ বোঝার ক্ষমতা ছিল। সফল চিকিৎসকের পাশাপাশি শিক্ষক ও প্রশাসক হিসাবে ওঁর অবদান চোখে পড়ার মতো। দুই প্রজন্মের সেরা চিকিৎসক হাতে ধরে তৈরি করে গিয়েছেন। কয়েক মাস আগেও দেখা হয়েছিল। ওঁর বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। স্বজন হারানোর যন্ত্রণা হচ্ছে।’ শহরের এক নামকরা বেসরকারি হাসপাতাল গোষ্ঠীর শীর্ষকর্তা রূপক বড়ুয়া এক দশক ধরে চিকিৎসক ও প্রশাসক মণি ছেত্রীকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন। রূপকবাবু বলেন, ‘অপূরণীয় ক্ষতি। আউটডোরে এলে লিফট ব্যবহার করতেন না। সিঁড়ি ভেঙেই উঠতেন। প্রেসার, সুগার সহ বড়ো কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল না। মজা করে ছাত্র চিকিৎসকদের বলতেন, আমার তো সুগার, প্রেসার কিছুই নেই। উপরে যেতে কিছু তো একটা থাকতে হবে।’  ফাইল চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ