


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের জেরে ১৩ এপ্রিলের পর থেকে স্নাতক স্তরের প্রথম সেমেস্টারের সমস্ত পরীক্ষা স্থগিত করে দিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এই পথে যে হাঁটা হবে, তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা আগেই হয়েছিল। সোমবার পরীক্ষা বিষয়ক বৈঠকে সবদিক বিবেচনা করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। বহু কলেজে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকে গিয়েছে। ফলে সেগুলিকে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ আশপাশের কলেজে পরীক্ষার্থীদের পাঠিয়ে পরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছিল। তবে, শেষপর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। ভোট ঘোষণার পরে ২৩ এপ্রিলের পরীক্ষা পিছিয়ে ২৫ এপ্রিল করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়। তবে, এবার সব পরীক্ষাই স্থগিত করে দিতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন, বিএ, বিএসসি, বিকমের ভোকেশনাল, সিসিএফ এবং সিবিসিএস পদ্ধতি মিলিয়ে প্রায় এক লক্ষ পরীক্ষার্থী রয়েছেন। এত ছাত্রছাত্রীকে অনিশ্চয়তায় ফেলতে না চাওয়াতেই আপাতত পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিখিলবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তথা আশুতোষ কলেজের অধ্যক্ষ মানস কবি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। নির্বাচনের সময় পরীক্ষা নেওয়া হলে ছাত্রছাত্রীরা সমস্যায় পড়তেন। আমরা অধ্যক্ষরাও এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম।’ প্রসঙ্গত, ১৬ থেকে ২৫ এপ্রিল প্রায় প্রতিদিনই একাধিক পরীক্ষা ছিল আগের সূচি অনুযায়ী। একই সঙ্গে, স্কুলগুলিও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার জন্য প্রথম সামেটিভ মূল্যায়ন নিতে পারছে না। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘটিহারানিয়া হাইস্কুলে ৩০ মার্চ ফোন করে জানানো হয়, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। ফলে ১ এপ্রিল থেকে প্রায় চার হাজার ছাত্রছাত্রীর প্রথম সামেটিভ মূল্যায়ন স্থগিত হয়ে গিয়েছে। একই ঘটনা ঘটেছে রাজ্যের বহু স্কুলেই।