Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাড়িতেই ৬ দিন ডিজিটাল অ্যারেস্ট, ২ কোটি দিয়ে ‘মুক্ত’ বৃদ্ধ দম্পতি

স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। থাকেন পাটুলিতে। সন্তান কর্মসূত্রে বিদেশে। কার্যত নিঃসঙ্গ জীবন। শহরের এমন প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা সহ অন্যান্য সহায়তা দিতে চালু রয়েছে কলকাতা পুলিসের ‘প্রণাম’ শীর্ষক প্রকল্প।

বাড়িতেই ৬ দিন ডিজিটাল অ্যারেস্ট, ২ কোটি দিয়ে ‘মুক্ত’ বৃদ্ধ দম্পতি
  • ২৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। থাকেন পাটুলিতে। সন্তান কর্মসূত্রে বিদেশে। কার্যত নিঃসঙ্গ জীবন। শহরের এমন প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা সহ অন্যান্য সহায়তা দিতে চালু রয়েছে কলকাতা পুলিসের ‘প্রণাম’ শীর্ষক প্রকল্প। এই প্রবীণ দম্পতিও ‘প্রণাম’-এর সদস্য। সেই সূত্রেই একাধিকবার তাঁরা সাইবার জালিয়াতি সংক্রান্ত সচেতনতা শিবিরে হাজির হয়েছেন। সেখানে তাঁদের পইপই করে পুলিসকর্তারা বলে দিয়েছেন, সাইবার প্রতারকরা কীভাবে প্রবীণ নাগরিকদের ‘সফ্ট টার্গেট’ করে। ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে আদতে যে কিছুই নেই, তাও বারবার বলে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। কিন্তু সত্যিই কি তাঁরা সচেতন হচ্ছেন? আদৌ কি ব্যর্থ করতে পারছেন প্রতারকদের কৌশল? এই প্রশ্ন উঠছে কারণ, সম্প্রতি বড়সড় সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন পাটুলির এই প্রবীণ দম্পতি! প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে টানা ছ’দিন বাড়িতেই ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ হয়ে গৃহবন্দি ছিলেন তাঁরা। সামাজিক সম্মান খোয়ানোর ভয়ে জালিয়াতদের কথামতো দফায় দফায় মোট ২ কোটি টাকা পাঠিয়ে দেন তাদেরই দেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে পাটুলি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রাক্তন অধ্যাপক। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে দুপুরে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন পান অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। এক ব্যক্তি নিজেকে মুম্বই পুলিসের অফিসার পরিচয় দিয়ে জানায়, প্রাক্তন অধ্যাপকের নামে বিদেশ থেকে একটি পার্সেল এসেছে। তাতে নিষিদ্ধ মাদক এবং একাধিক সিম কার্ড রয়েছে। একথা শুনে বৃদ্ধ স্বাভাবিকভাবেই ঘাবড়ে যান। জালিয়াতরা আধার কার্ড চাইলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় তা  তিনি দিয়েও দেন। এরপর প্রতারকরা বলে, সমস্ত তথ্যই মিলে গিয়েছে। ভিডিও কল করে তাঁকে দেখানো হয়, মুম্বই পুলিসের ইউনিফর্মে একজন ‘অফিসার’ বসে রয়েছেন। পিছনে মুম্বই পুলিসের লোগো। সেই ভুয়ো অফিসার বলে, পার্সেলটি তাঁকে যে বা যারা পাঠিয়েছে, তাদের খোঁজ চালাচ্ছে মুম্বই পুলিস, এনসিবি এবং সিবিআই। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। সিম কার্ডগুলি  প্রাক্তন অধ্যাপকের আধার দিয়েই তোলা। তাই তাঁকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করা হল। অভিযোগকারীর মোবাইলে এই সংক্রান্ত কপি ও ভুয়ো ওয়ারেন্ট পাঠানো হয়। তাহলে কী উপায়? জানতে চান বৃদ্ধ। ‘মুম্বই পুলিস’ জানায়, টাকাপয়সা দিলেই সব মিটে যাবে! যতক্ষণ না টাকা মেটানো হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ হয়ে থাকবেন। এই অবস্থায় জালিয়াতদের চাহিদা মতো টাকা দিতে রাজি হয়ে যান অভিযোগকারী। এরপর টানা ছ’দিন ধরে দম্পতি তাঁদের যাবতীয় সঞ্চয় ভেঙে জালিয়াতদের দেওয়া অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ করতে থাকেন। দু’কোটির পর আরও টাকা দাবি করায় বৃদ্ধ তাঁর এক পরিচিতকে বিষয়টি জানান। তখনই প্রাক্তন অধ্যাপক জানতে পারেন, প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন।  পাটুলি থানায় অভিযোগ দায়ের হলে পুলিস তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীরা দেখেন, যে অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেগুলি সবই ভাড়ার অ্যাকাউন্ট (মিউল অ্যাকাউন্ট)। অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের পাকড়াও করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস। 

সম্পর্কিত সংবাদ