


কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: আগামী বর্ষার মরশুমের আগেই ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা মনে করছে। মে-জুন মাস নাগাদ এল নিনো শুরু হয়ে যেতে পারে। দেশের মূল ভূখণ্ডে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু জুন মাসের শুরুতে সাধারণত ঢুকে পড়ে। তার আগে মে মাসে আন্দামানে চলে আসে বর্ষা।
প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে এল নিনো বলে । তাপমাত্রা কম থাকলে বলা হয় ‘লা নিনা’। এর মাঝামাঝি নিউট্রাল পরিস্থিতিও থাকে অনেক সময়। এল নিনো পরিস্থিতি বায়ুপ্রবাহের পতি প্রকৃতির উপর প্রভাব ফেলে। এতে বর্ষার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এল নিনো হলে বর্ষা মরশুমে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যেতে পারে। আবার লা নিনা পরিস্থিতিতে ভালো বৃষ্টি হয়। ফলে বর্ষার ঠিক আগে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার দেশের সামনে একটা বিপদ তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কারণ বৃষ্টি কম হলে তা কৃষি উৎপাদনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর অবশ্য এখনও বর্ষার কোনও দীর্ঘকালীন পূর্বাভাস দেয়নি। সেটা কিছুদিন পর সব কিছু আরও যাচাই করে দেওয়া হবে । তবে এখন যে লা নিনা পরিস্থিতি আছে তা দুর্বল হতে শুরু করেছে বলে সাম্প্রতিক একটি পূর্বাভাসে উল্লেখ করেছে তারা। লা নিনা আরও দুর্বল হবে বলেও জানানো হয়েছে। এল নিনো কবে আসবে সেব্যাপারে মৌসম ভবন কিছু এখনও বলেনি।
আবহাওয়াবিদরা বলছে, এল নিনো-লা নিনা ছাড়াও আরও কিছু পরিস্থিতি দেশের বর্ষার উপর প্রভাব ফেলে । ভারত মহাসাগরে জলের উষ্ণতার পার্থক্য বা ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ সহ আরও কয়েকটি বিষয় বর্ষার উপর প্রভাব ফেলে। ডাইপোল এখন নিউট্রাল অবস্থায় আছে। আপাতত এর কোনও পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি। অতীত দেখা গিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতিতেও অন্যান্য বিষয়গুলি অনুকূল থাকার জন্য দেশে বর্ষা কালীন বৃষ্টি মোটামুটি হয়েছে। খব কম বৃষ্টি হয় নি এল নিনো বছরেও এমনটা হয়েছে। গত বর্ষা মরশুমে লা নিনা পরিস্থিতি ছিল । দেশের বেশির ভাগ অংশে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছিল।
এবার এল নিনো হওয়ায় বর্ষা নিয়ে একটা আশঙ্কা থাকছে। লা নিনা ও এল নিনোর মাঝে নিউট্রাল পরিস্থিতি খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পুর্বাভাস সংস্থাগুলি মনে করছে। এপ্রিলের মধ্যে নিউট্রাল পরিস্থিতি বিদায় নিতে পারে।