


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাসপোর্ট জালিয়াতিতে বিরাটি থেকে ধৃত আজাদ মল্লিকের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে মিলেছে পাক যোগাযোগের প্রমাণ। একাধিক পাক নাগরিকের সঙ্গে তার নিয়মিত কথাবার্তা চলত। তাদের মধ্যে এমন কয়েকজনের নাম রয়েছে, যাদের গতিবিধি যথেষ্ট সন্দেহজনক। আজাদের মোবাইল ঘেঁটে এই তথ্য পাওয়ার পর ওই সমস্ত পাক নাগরিকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে তার কাছ থেকে জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে খবর।
পাক নাগরিক আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি আধিকারিকরা জানতে পারছেন, পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নথি তার হোয়াটসঅ্যাপে আসত। সেগুলির ভিত্তিতে তৈরি হতো ভারতীয় ভোটার, প্যানসহ বিভিন্ন নথি। পাকিস্তানে তার একাধিক এজেন্ট রয়েছে। তারাই নথিগুলি অভিযুক্তের কাছে পাঠাত। তাদের আধার-ভোটার কার্ড আগেই তৈরি করে রাখত আজাদ। এরপর ওই পাক নাগরিকদের জম্মু কাশ্মীর ও পাজ্ঞাব সীমান্ত দিয়ে ভারতে নিয়ে আসত সে। তারপর তাদের হাতে এই নথি তুলে দেওয়া হতো। ওই নথি ব্যবহার করে অবৈধভাবে ভারতে আসা পাক নাগরিকরা বাড়ি বা হোটেল ভাড়া নিত। তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরোনো এই পাক নাগরিকদের সিংহভাগই জঙ্গি গোষ্ঠীর স্লিপার সেলের সদস্য। তার মোবাইল থেকে অসংখ্য নথি মিলেছে। এমনকী অনেক পাক নাগরিক দেশে বসে ভারতীয় নথি পেয়ে গিয়েছে বলে খবর। অবৈধভাবে সীমান্ত পেরোনো পাক নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট হতো আজাদের। একইসঙ্গে এজেন্সির হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, নিজেদের মধ্যে কথাবার্তার জন্য আজাদ একাধিক গ্রুপ খুলেছিল। তদন্তে উঠে আসছে পাক নাগরিকদের এই গ্রুপ খোলা হয় ভারতীয় নম্বর দিয়ে। আজাদ জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, ভুয়ো নথি দিয়ে সে একাধিক সিম তুলেছিল। পাক নাগরিকদের হোয়াটসঅ্যাপ খোলার জন্য এই সিম ব্যবহার করা হয়। আজাদ পাক নাগরিকদের কাছে হোয়াটঅ্যাপ খোলার জন্য পিন পাঠাত বলে জানা যাচ্ছে। তার মোবাইল থেকে কুড়ি হাজারের বেশি ‘কন্টাক্ট’ পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি পাকিস্তানে টাকা পাঠানোর জন্য হাওলা রুটকে ব্যবহার করেছিল আজাদ। পাসপোর্ট জালিয়াতি করে আসা টাকা হাওলা অপারেটরদের মাধ্যমে তার এজেন্ট সহ অন্যদের পাঠাত। এই টাকার একটা অংশ জঙ্গিদের তহবিলে গিয়েছে বলে জেনেছেন ইডি আধিকারিকরা। কোন জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে টাকা গিয়েছে সেটাই জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা।