আমেদাবাদ: অর্থ তছরুপের অভিযোগ। শীর্ষ গুজরাতি দৈনিক সংবাদপত্র ‘গুজরাত সমাচারে’র অন্যতম মালিক বাহুবলী শাহকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পরে অবশ্য স্বাস্থ্যের কারণে ১০ হাজার টাকার বন্ডের বিনিময়ে ১৫ দিনের জামিন মঞ্জুর করে আমেদাবাদের দায়রা আদালত। শাহের গ্রেপ্তারি নিয়ে ইডির তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে বাহুবলী শাহের পরিবারের অভিযোগ, সরকারের সমালোচনার কারণেই তাঁকে নিশানা বানানো হয়েছে। প্রতিবাদে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল সহ বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতারা। বিরোধীদের অভিযোগ, এবার সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতেও কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার শুরু করেছে শাসকদল বিজেপি। বাহুবলী শাহ ১৫টিরও বেশি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। তিনি লোক প্রকাশন লিমিটেডের অন্যতম ডিরেক্টর। এই সংস্থাটিই গুজরাত সমাচার সংবাদপত্র ও জিএসটিভি চ্যানেল পরিচালনা করে। গুজরাত সমাচারের ম্যানেজিং এডিটর হলেন বাহুবলী শাহের দাদা শ্রেয়াংশ শাহ। বহুবলী শাহের যোগ থাকা একাধিক সংস্থায় কয়েকদিন ধরে তল্লাশি চালাচ্ছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। গ্রেপ্তারির পর বাহুবলীর শারীরিক অবস্থার অবনিত হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গুজরাত সমাচারের মালিক গ্রেপ্তার হওয়ায় শাসকদল বিজেপির মুণ্ডপাত করেছে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি (আপ)। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর তোপ, শুধুমাত্র বিশেষ একটি সংবাদপত্র নয়, বরং সমগ্র গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের ষড়যন্ত্র প্রকাশ্যে চলে এল। এক্স হ্যান্ডলে আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল লিখেছেন, এই ঘটনা বিজেপির হতাশার বহিঃপ্রকাশ। সত্যি কথা বলা ও প্রশ্ন তোলা প্রতিটি কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে চায় বিজেপি। গুজরাত তথা গোটা দেশের মানুষ খুব শীঘ্রই এই একনায়কতন্ত্রের জবাব দেবে।
আঞ্চলিক ভাষায় প্রকাশিত দেশের অন্যতম শীর্ষ সংবাদপত্র গুজরাত সমাচার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৩২ সালে। বাহুবলী ও শ্রেয়াংশ শাহদের পরিবার পরিচালিত এই সংবাদপত্রে দু’দিন আগে তল্লাশি চালিয়েছিল আয়কর দপ্তর। পরে হানা দেয় ইডিও। পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা গুজরাত সমাচারের এক্স অ্যাকাউন্টও সম্প্রতি ব্লক করে দেওয়া হয়। এবার অন্যতম মালিক বাহুবলী শাহ অর্থ তছরুপের অভিযোগ সংক্রান্ত পুরনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার হলেন বলে সূত্রের খবর। গুজরাতের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার সদস্য শক্তিসিন গোহিলের তোপ, বিজেপি সরকারের নীতিবাক্যই হল সত্যের জন্য রুখে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের শাস্তিপ্রদান। ক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন, গুজরাত সমাচার বরাবরই সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে এসেছে। তবে ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে বিজেপি সরকারকে বাস্তবের আয়না দেখানোয় মোদি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় অস্ত্র আয়কর দপ্তর ও ইডিকে গুজরাত সরকার ও জিএসটিভি বিরুদ্ধে মাঠে নামিয়েছেন।



