Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কম্পনের জেরে পর্ণশ্রীতে রাস্তায় ফাটল, ধসের আতঙ্কে বাসিন্দারা

বেলা দেড়টার আশপাশে, আচমকা কেঁপে উঠল মাটি। চোখের পলকে ফাটল ধরল রাস্তায়। নামল ধস। প্রকৃতির ক্ষণিকের তাণ্ডবে হুড়োহুড়ি পড়ে গেল বেহালার পর্ণশ্রীতে। দুরদার করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের চোখেমুখে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা।

কম্পনের জেরে পর্ণশ্রীতে রাস্তায় ফাটল, ধসের আতঙ্কে বাসিন্দারা
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বেলা দেড়টার আশপাশে, আচমকা কেঁপে উঠল মাটি। চোখের পলকে ফাটল ধরল রাস্তায়। নামল ধস। প্রকৃতির ক্ষণিকের তাণ্ডবে হুড়োহুড়ি পড়ে গেল বেহালার পর্ণশ্রীতে। দুরদার করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের চোখেমুখে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা। 

Advertisement

শুক্রবার দুপুরে ভূমিকম্পের জেরে পর্ণশ্রীর মান্নাপাড়ার ১ নম্বর সাগর মান্না রোডে লম্বালম্বি ফাটল ধরে যায়। পিচ রাস্তার উপর অনেকটা দীর্ঘ এই ফাটল ছিল বেশ গভীর। ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় কাউন্সিলার সঞ্চিতা মিত্র ও পুরসভার অফিসাররা। জানা গিয়েছে, বুধবারই ওই রাস্তা ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচিতে নতুন করে তৈরি করা হয়েছিল। ফের রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। পুর-আধিকারিকদের অনুমান, ওই রাস্তার পাশেই একটি বড়ো পুকুর রয়েছে। সেটি চারদিক দিয়ে বাঁধানো। ভূমিকম্পের জেরে পুকুরের গার্ডওয়াল কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার জেরেই মাটির তলা থেকে মাটি সরে গিয়ে রাস্তায় ফাটল ধরেছে, ধস নেমেছে। 
এদিকে এদিন শহরে ফের বাড়ি হেলে পড়ার খবরে আতঙ্ক ছড়ায়। ঘটনাস্থল গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ৩৪-এ মেটক্যাফে স্ট্রিট। খবর পেয়ে ছুটে যান প্রশাসনিক আধিকারিকরা। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, গুজব রটেছে। ওই বিল্ডিং বহু বছর ধরেই হেলে রয়েছে। কম্পনের জেরে দেওয়ালে কোথাও ফাটল ধরেনি। পার্ক স্ট্রিটের অভিজাত হোটেলে এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বক্তব্য রাখাকালীন কেঁপে ওঠে হলঘর। সুকান্ত মজুমদার রসিকতা করে বলে ওঠেন, ভোট আসছে তো তাই! আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা নিয়ে শহরের রাস্তায় রাস্তায় জটলা জনতার। কেউ বাড়িতে ভিডিও কল করেছেন, কেউ প্রিয়জনকে ফোন করে অভিজ্ঞতা ‘শেয়ার’ করেছেন। কেউ বলছেন, চেয়ার কাঁপছিল! কেউ ফ্যান নড়তে দেখেছেন। আতঙ্কে আবার কারও পা কাঁপার অনূভূতি। ভূমিকম্প টের পেতেই সল্টলেক সেক্টর ফাইভের একাধিক বহুতল থেকে বেরিয়ে পড়েন কয়েকশো কর্মী। নিউটাউনেও একই ছবি। বেশ কিছুক্ষণ রাস্তায় কাটিয়ে আবার তাঁরা বহুতলে ফেরেন। তাঁদের কথায়, ‘আফটার শক হতে পারে! তাই ভিতরে না যাওয়াই সেফ!’ নিউটাউনে বহু আবাসন থেকে নীচে নেমে আসেন বাসিন্দারা। সকলের মুখেই এক কথা, ‘দেখ তো কোথাও ফাটল ধরল কি না!’
নবান্নে কাজে ব্যস্ত ছিলেন আধিকারিক-কর্মীরা। ভূমিকম্পের পরেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। লিফটের বদলে সিঁড়ি বেয়ে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসেন কর্মীদের একাংশ। সচিব পর্যায়ের কয়েকজন আধিকারিককেও দেখা যায় রাস্তায়। আতঙ্কিত কর্মচারীদের উপলব্ধি, ‘যেন পুরো বাড়িটাই নড়ছিল!’ 
শুধু নবান্ন নয়, স্বাস্থ্যভবন থেকে বিভিন্ন হাসপাতাল, বিধানসভা, নির্বাচন কমিশনের রাজ্য সিইও অফিস সর্বত্রই কাজ থমকে যায়। মুহূর্তে ভয় গ্রাস করে কর্মীদের। তবে, হাইকোর্টের ছবি ছিল আলাদা। মনে করা হচ্ছে, কোর্ট ভবন যেহেতু শতাব্দী প্রাচীন, তাই সেখানে তেমন কোনো অনুভূতি টের পাওয়া যায়নি। 
আতঙ্ক ছড়ায় ভাঙড়ের কচুয়া হাইস্কুলে। শিক্ষক, বহু পড়ুয়া সেই সময় স্কুল ছেড়ে বাইরের মাঠে আশ্রয় নেয়। কয়েকজন ছাত্রছাত্রী মাথা ঘুরছে বলে মাটিতে বসে পড়ে। সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রীর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। শিক্ষকরাই অসুস্থ পড়ুয়াদের নিয়ে যান জিরানগাছা গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে ওই দু’জন ছাত্রীকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বারুইপুর গার্লস হাইস্কুলের দেওয়ালে, মেঝেতে বড়ো ফাটল ধরেছে। ছাত্রী-শিক্ষিকাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। 
বনগাঁ বাংলাদেশের কাছাকাছি ভূমিকম্পের উৎস হওয়ায় এই অঞ্চলে কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশি। চরম আতঙ্কে রাস্তায় ভিড় জমায় জনতা। একাধিক স্কুলের পড়ুয়াদের বিল্ডিংয়ের বাইরে বের করে দেন শিক্ষকরা। তবে ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ