নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড (টিআই প্যারেড) সম্পন্ন হল। শুক্রবার দুর্গাপুর উপ সংশোধনাগারে টিআই প্যারেড হয়। কড়া নিরাপত্তায় সেখানে নিয়ে আসা হয় নির্যাতিতাকে। অন্যান্য বিচারাধীন বন্দির সঙ্গে এই ঘটনায় ধৃত পাঁচ অভিযুক্তকেও দাঁড় করানো হয় প্যারেডে। সংশোধনাগার ও পুলিশ সূত্রে খবর, সবার মধ্যে থেকে পাঁচ অভিযুক্তকেই নির্যাতিতা চিহ্নিত করেছেন। ফলত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে এই প্যারেড। যে গতিতে তদন্তের সব পর্যায় সম্পন্ন হল, তাতে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আশা দেখছে আইনজীবী মহল। নির্যাতিতার আইনজীবীও জানিয়েছেন, তদন্তের সব প্রক্রিয়াই প্রায় সম্পন্ন। পুলিশ এখন চার্জশিট দিয়ে ট্রায়াল শুরু করতেই পারে।
বুধবার দুর্গাপুর আদালতে এই মামলার শুনানির দিনই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল যে শুক্রবার হবে টিআই প্যারেড। এই প্রক্রিয়ায় নির্যাতিতার সহপাঠী ছাড়া বাকি যে পাঁচ অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, তাদের শনাক্ত করবেন নির্যাতিতা। সেই মতো এদিন সকাল থেকে দুর্গাপুর উপ সংশোধনাগারে ছিল টান টান উত্তেজনা। অদূরে ভিড় জমিয়েছিলেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। একটু পরেই হাজির হন নির্যাতিতার আইনজীবীরা। সংশোধনাগারের গেটের সামনে তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন। সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে তাঁদের সরিয়ে দেন। দুপুর ১২টা নাগাদ কড়া পুলিশি পাহারায় আনা হয় নির্যাতিতাকে। পুলিশের গাড়িতে নির্যাতিতার সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা-ও। নির্যাতিতাকে নিয়ে পুলিশের গাড়ি সংশোধনাগারের ভিতরে ঢুকে যায়। মা-কে গাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়। কিছু পরেই দুর্গাপুর আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব সরকার সংশোধনাগারে আসেন। তাঁর উপস্থিতিতে সংশোধনাগারের ভিতরে একটি ফাঁকা মাঠে বাকি বন্দিদের সঙ্গে এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচ অভিযুক্ত নাসিরুদ্দিন, অপু বাউরি, শেখ ফিরদৌস, শেখ রিয়াজুদ্দিন, সফিক শেখকে দাঁড় করানো হয়। সূত্রের খবর, খুব সহজেই বাকিদের মধ্যে থেকে নির্যাতনের ঘটনায় যুক্ত পাঁচজনকে চিহ্নিত করেন নির্যাতিতা। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে এই প্রক্রিয়া চলার পর পুলিশি ঘেরাটোপেই নির্যাতিতা ও তাঁর মা সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তারপর সংশোধনাগার থেকে বেরিয়ে আসেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটও। যদিও তিনি এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
পুলিশ ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট আসা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ও নির্যাতিতার মেডিকেল রিপোর্ট পুলিশের হাতে এসেছে। সূত্রের খবর, সেখানে এক অভিযুক্তই নির্যাতিতাকে ধর্ষণ করে বলে উল্লেখ রয়েছে। যদিও সংগঠিতভাবে বাকিরা এই কাণ্ডে মদত দেওয়ায় ধর্ষণের ধারাতেই অভিযুক্ত সবাই। অভিযুক্তদের টাওয়ার লোকেশন রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। নির্যাতিতার মোবাইল থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। সংশোধনাগার চত্বরে নির্যাতিতার আইনজীবী পার্থ ঘোষ বলেন, ‘মামলার প্রতিটি পর্যায় সম্পন্ন। এবার আমরা দ্রুত ট্রায়াল শুরুর আশা করতেই পারি। তদন্তে কোনও গাফিলতি নজরে এলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।’