Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির মধ্যেও ব্রিটেন সহ ইউরোপের বহু জায়গায় প্রথমবার দুর্গাপুজো

এক অদ্ভুত সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ব্রিটেন। অভিবাসন আইনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন বহু মানুষ। অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও অনিশ্চয়তা সর্বত্র।

জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির মধ্যেও ব্রিটেন সহ ইউরোপের বহু জায়গায় প্রথমবার দুর্গাপুজো
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৫:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, লন্ডন: এক অদ্ভুত সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ব্রিটেন। অভিবাসন আইনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন বহু মানুষ। অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও অনিশ্চয়তা সর্বত্র। যার জেরে অনেকেই একাকিত্ব ও মানসিক অবসাদে ভুগছেন। তবু দুর্গাপুজোর সময় এলেই বাঙালির মনে লাগে শরতের হিল্লোল। পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তেই থাকুন না কেন, চোখ বন্ধ করলেই তাঁদের মনে ভেসে ওঠে কাশের বনে বাতাসের দোলা লাগার ছবি। অস্থির এই আবহে ব্রিটেনে অনেকেই এবার পুজো করতে চলেছেন প্রথমবার। যেমন, ওয়ারউইকশায়ার সর্বজনীন। বিভিন্ন পেশার মানুষজন একত্রিত হয়েছেন ওয়েস্টনের ওয়ারউইকশায়ারে। ২৬-২৮ সেপ্টেম্বর ওয়েদারলি ভিলেজ হলে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপুজো। ওয়ারউইকশায়ার সর্বজনীনের শুভদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘কঠিন সময়ে সম্প্রদায়, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দুর্গাপুজো মূলত আশার, সহনশীলতা এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়।’ এতদিন অন্যত্র পুজোয় মেতে উঠতেন ওয়ারউইকশায়ারের প্রবাসী বাঙালিরা। শুভদীপবাবু জানাচ্ছেন, ‘আমরা দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে অন্য পুজোয় যেতে যেতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। তাই স্থানীয়ভাবে একটি পুজোর তাগিদ অনুভব করি।’ তাঁদের এই প্রতিমাটি তৈরি করছেন পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য দেবব্রত মুখোপাধ্যায়। মূল দুর্গা প্রতিমার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট। ব্যাকগ্রাউন্ড ও বেস মিলিয়ে এটি হবে প্রায় সাড়ে ছ’ফুট। বাকি প্রতিমাগুলি হবে প্রায় আড়াই ফুটের। তৈরির পর মূর্তিগুলি একটি ‘চালা’-য় বসানো হবে।

Advertisement

কাশপুল নর্থ কেন্ট বাঙালি অ্যাসোসিয়েশনও এবারই প্রথবার দুর্গাপুজোর আয়োজন করছে। কেন্ট কাউন্টির গ্রেভসএন্ডের ‘এলিট ভেনু’তে পুজো হবে ২৮-৩০ সেপ্টেম্বর। এই পুজোর উদ্যোক্তা মাত্র আটটি পরিবার। স্থানীয় ভারতীয় কমিউনিটি এবং ডার্টফোর্ড বরো কাউন্সিলও তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কলকাতা থেকে পৌঁছে গিয়েছে প্রতিমা। পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য সায়নী ঘোষ বলেন, ‘আমাদের প্রতিমার উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট। কোনও কর্পোরেট সাহায্য ছাড়াই, শুধুমাত্র স্থানীয়দের উদ্যোগে এই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে।’
পুজোর আমেজ থেকে বাদ যাচ্ছে না সারবিটন। তাদের প্রথম পুজোয় অভিনবত্ব আনতে চলেছে স্থানীয় বাঙালিদের নিয়ে গঠিত ‘বং জংশন’। ২৬-২৮ সেপ্টেম্বর হোলিফিল্ড স্কুলে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘এখন খরচ বেড়েছে। তবে তাতে সামাজিক সংহতি বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাধা পড়া উচিত নয়।’ 
প্রথমবারের মতো দুর্গাপুজোয় আয়োজন করতে চলেছে ব্রিটেন থেকে প্রায় হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ নেদারল্যান্ডসের ডেলফ্টের বাঙালিদের নিয়ে গঠিত ‘দুর্গাবাড়ি’। ‘বাংলায় শিকড়, ডেলফটে উদযাপন’ থিমে পুজো হবে ১-৪ অক্টোবর। সংগঠনের পক্ষে অনিন্দিতা নন্দী রায় বলেন, ‘দুর্গাপুজো মানেই শুধু জাঁকজমক নয়। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যবোধ ও আমাদের ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ