Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অস্ত্রপুজো দিয়ে শুরু ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির দুর্গা আরাধনা, চলবে টানা পনেরো দিন

দেবীপক্ষে নয়, শতাব্দী প্রাচীন ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা হয় পিতৃপক্ষেই। রীতি মেনে সোমবার থেকে অস্ত্রপুজো দিয়ে দেবীর আরাধনা শুরু হল। এদিন সকালে মন্দির প্রাঙ্গণে বেলবরণ পুজো করা হয়।

অস্ত্রপুজো দিয়ে শুরু ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির দুর্গা আরাধনা, চলবে টানা পনেরো দিন
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: দেবীপক্ষে নয়, শতাব্দী প্রাচীন ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা হয় পিতৃপক্ষেই। রীতি মেনে সোমবার থেকে অস্ত্রপুজো দিয়ে দেবীর আরাধনা শুরু হল। এদিন সকালে মন্দির প্রাঙ্গণে বেলবরণ পুজো করা হয়। চণ্ডীমণ্ডপে ঘট ও অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হয়। দেবী দুর্গা মন্দিরে পটে পূজিতা হন। ৪০০ বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে সাবিত্রী মন্দির। সেই মন্দিরে কুলদেবী সাবিত্রীর বিগ্ৰহ রয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে পৃথক চণ্ডীমণ্ডপে দেবী দুর্গার পুজো হয়। এখানে দেবী পটে পূজিতা হন। আগে শালপাতার ঝালরে আঁকা পটে দেবীর পুজো হতো। সেই পটের বদলে চণ্ডীমণ্ডপের ভিতরে দেওয়ালের পটে আঁকা দেবী দুর্গার পুজো করা হয়। রবিবার কৃষ্ণপক্ষের জীতাষ্টমী তিথির রাতে বেলগাছের তলায় মঙ্গলঘট স্থাপন করা হয়। রাজবাড়ির কুলপুরোহিত বেলগাছের তলায় পুজোর সূচনা করেন। বেলগাছের পাশে হলুদ কাপড়ে ঢাকা নবপত্রিকা স্থাপন করা হয়। রাজবাড়ির কুলপুরোহিত মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে দেবীর আরাধনা করেন। নিয়মানুসারে পুজোর উপাচারে দূর্বাঘাস, ঘি, চন্দন, সোনা ও রূপোর খণ্ডাংশ রাখা হয়। পুজোর শেষে পুরোহিত সেই মঙ্গলঘট চণ্ডীমণ্ডপে নিয়ে যান। প্রথা মেনে রাজবাড়ির এক সদস্য পারিবারিক অস্ত্র মন্দিরে বহন করে নিয়ে যান। 
রাজবাড়ির সদস্যরা জানান, এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন সর্বেশ্বর মল্লদেব। তিনি স্থানীয় মালরাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে ঝাড়গ্রাম রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রাজ্যাভিষেকের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ভাদ্রমাসের শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে ইন্দ্রাভিষেক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে মা দুর্গার আরাধনা শুরু হয়। প্রথা মেনে মণ্ডপে ১৫দিন ধরে পুজো, হোম ও চণ্ডীপাঠ চলবে।
প্রাচীন এই পুজো ঘিরে দেবী দুর্গা ও মল্লদেবের সাক্ষাৎ নিয়ে নানা জনশ্রুতি রয়েছে। মন্দিরের পাশে বৃহৎ পুকুর রয়েছে। সেই পুকুরে দেবীর দুই হাত দেখতে পাওয়া গিয়েছিল বলে ভক্তরা বিশ্বাস করেন। রাজবাড়ির সদস্য জয়দেব মল্লদেব বলেন, দুর্গামন্ত্রে নিত্য কুলদেবী সাবিত্রীর পুজো হয়। পটে হয় দেবী দুর্গার পুজো। দেবীপক্ষ নয়, পিতৃপক্ষে পুজো শুরু হয়। কয়েক শতাব্দী ধরে এই প্রথার কোনও বদল হয়নি। এর ফলে ঝাড়গ্রামে দুর্গাপুজোর সূচনা হয়ে গেল বলা যেতে পারে। 
ইতিমধ্যেই সাবিত্রী মন্দিরের পুজো দেখতে ভক্তরা আসতে শুরু করে দিয়েছেন। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির দুর্গাপুজো জেলার পুজো মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে।
ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, বহু ইতিহাসের সাক্ষী ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি। সাবিত্রী মন্দিরের দুর্গাপুজো জেলার পর্যটন মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। মহালয়ার আগে থেকেই দূর-দূরান্তের পর্যটকরা এই মন্দিরে পুজো দেখতে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ