নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বর্ষায় জল জমে থাকে। তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে ‘অভ্যস্ত’ যাত্রীরা। অথচ, চৈত্রের তীব্র গরমেও জলবন্দি দমদম আন্ডারপাস। প্রতিদিন হাজার হাজার স্কুল পড়ুয়া, অফিস যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে ওই জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তালিকায় সরকারি আমলা, জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন। সমস্যা সমাধানের কোনও লক্ষণ নেই। বছরের পর বছর ভোগান্তি চলছে। অবিলম্বে সমস্যা সমাধানের দাবিতে সরব হয়েছেন ভুক্তভোগী নিত্যযাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দমদম আন্ডারপাস বহুদিন ধরেই কার্যত নরককুণ্ড। বর্ষার সময় মাঝেমধ্যে হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে যায়। বাকি সময় দমদম স্টেশন, আশপাশের বাজার এলাকার নোংরা জল আন্ডারপাসের নিচু ড্রেনে জমে থাকে। দিনের বেশিরভাগ সময় ড্রেন উপচে ওই নোংরা জলে আন্ডারপাস ভেসে যায়। যদিও জল সরাতে দক্ষিণ দমদম পুরসভার পাম্প বসানো রয়েছে। তারপরও কোনও অদৃশ্য কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। বেশিরভাগ সময় দমদম স্টেশনের দিক থেকে নাগেরবাজারগামী লেনে নর্দমার জল জমে থাকত। মাস খানেক ধরে এই লেন শুকনো। চলতি মাসের প্রথমে এই লেন বন্ধ করে ড্রেন সংস্কারের কাজ হয়েছ। এখন উল্টো দিকের লেন অর্থাৎ নাগেরবাজারের দিক থেকে দমদম চিড়িয়া মোড়গামী লেন জলের তলায়। আগে এই লেনে জল সেই অর্থে দেখা যেত না। গত একমাস ধরে এই লেন নোংরা জলে ভরে থাকায় তীব্র ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কিছু জায়গায় আবার রাস্তা বেহাল। বড় বড় গর্ত হয়ে রয়েছে। ওই সব গর্তে বাইক বা গাড়ির চাকা পড়লে চারিদিকে জল ছিটিয়ে যাচ্ছে। তাতে ভিজছেন সাইকেল ও বাইক আরোহীরা। প্রতিদিন দমদম এলাকার একাধিক নামী স্কুলের কচিকাঁচা পড়ুয়াদের ওই জলের উপর দিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা। অনেকেই বিপদের ঝুঁকি নিয়ে আন্ডারপাসের উল্টো দিকের লেন দিয়ে যাতায়াত করছেন। নোংরা জলে চিড়িয়ামোড় গামী অটো স্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তা কাদায় মাখামাখি। পথচারীরাও বিপাকে পড়ছেন। দমদম নিউ মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে ঢোকার মুখের রাস্তা জল-কাদায় মাখামাখি। ক্রেতারা সেসব মাড়িয়ে বাজারে ঢুকছেন। সবাই দেখছে, কারও হুঁশ নেই।
স্থানীয় কাউন্সিলার তথা দক্ষিণ দমদম পুরসভার সিআইসি মুনমুন চট্টোপাধ্যায় বলেন, আন্ডারপাসের ধারের ড্রেন পলি জমে ভরে গিয়েছে। রেল কোনও সহযোগিতা করছে না। একদিকের লেনের কাজ পুরসভা সম্পন্ন করেছে। দ্রুত ওই লেনের ড্রেন পরিষ্কারের কাজ করা হবে।