Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোডের আড়ালে পাচার হচ্ছে মাদক ও মোবাইল

কোডের আড়ালে পাচার হচ্ছে মাদক ও মোবাইল
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: কোড নম্বর ১৪। বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে এই রহস্য কোডের আড়ালেই চলে মাদক ও মোবাইল পাচার। আসামিদের কাছে খুব সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে দু’টি বস্তু। পাঁচিল টপকে ঢুকে যাচ্ছে জেলের ভিতরে। কড়া পুলিসি পাহারা থাকা সত্ত্বেও এগুলি কীভাবে ঢুকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। ‘বজ্র আঁটুনি ফোস্কা গেরো’র অভিযোগও তুলছেন কেউ কেউ। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, কোডটি আসলে ১৪ নম্বর পিলার। পাগলা হাজতের দিকে সেটির অবস্থান। জেলের বাইরে থেকে ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে গাজা এবং কিপ্যাড মোবাইল। জেলবন্দি কয়েকজন আসামি মাদক করবার চালাচ্ছে। তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসা ব্যক্তিদের কোড নেম বলে দিলেই তারাই ১৪ নম্বর পিলারকে তাক করে গাঁজা ও মোবাইল ভর্তি প্যাকেট ছুড়ে দিচ্ছে। ওইদিকে পুলিসের টহল কম থাকে। সেই সুযোগটাকে পুরোদস্তুর কাজে লাগায় আসামিরা। এতদিন এভাবেই চলছিল দিব্যি। শুক্রবার জেলের পাঁচিলের বাইরের রাস্তা থেকে ওই পিলারকে লক্ষ্য করে দু’টি মোবাইল ও ১০০ গ্রামের বেশি গাঁজা ভর্তি প্যাকেট ভিতরে কেউ বা কারা ছুড়ে দেয়। পড়বি তো পড় কনস্টেবলের চোখে। সেসময় তিনি ওই এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। তিনি প্যাকেট ভর্তি মোবাইল ও গাঁজা উদ্ধার করেন। তারপরে জানা যায়,  কী প্যাড মোবাইলের চারিদিকে গাঁজা ঠেসে ভরা থাকে। যাতে অনেক দূর থেকে ছুড়ে দিলেও ফোনের কোনও ক্ষতি হয় না। 
জেলের কর্তব্যরত এক পুলিস বলেন, সাধারণত ওই ১৪ নম্বর পিলারের দিকে খুব একটা টহল দেওয়া হয় না। ওই দিকটা বেশ কিছুদিন ধরে পরিত্যক্ত  অবস্থায় রয়েছে। সেই সুযোগে বাইরের দিক থেকে মোবাইল ও মাদক দ্রব্য ছুড়ে দেওয়া হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত বুধবার জেলের ভিতরে হঠাৎ করে তল্লাশিতে নামে কর্তৃপক্ষ। সেলের ভিতরে থাকা দু’জন আসামির কাছ থেকে দু’টি কিপ্যাড মোবাইল উদ্ধার হয়। ঘটনায় বহরমপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে জেলের সুপার। পুলিস মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। তারঠিক দু’দিন পরেই জেলের ভিতরে মোবাইল ও গাঁজা পাচারের ঘটনা সামনে এল। পুলিসের সন্দেহ ওই দুই আসামির কাছেই পৌঁছত এই মোবাইল দুটি। 
জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত মহম্মদ নাসিম নামে এক বন্দির সেল থেকে ওইদিন মোবাইল ও সিম কার্ড উদ্ধার হয়। ইকবালপুর থানার মাদক মামলায় অভিযুক্ত নাসিম ২০১৩ সালের মামলায় বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে সাজা খাটছে। সে মোবাইলের মাধ্যমে বাইরের মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। 
অপরদিকে, সিউড়ি থানার একটি মাদক মামলায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম ওরফে টোকির কাছ থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করেন জেলের আধিকারিকরা। ২০১৭ সালের একটি মাদক মামলায় সে বেশ কয়েক বছর ধরে এই সংশোধনাগারে বন্দি হিসেবে সাজা খাটছে। সেও সেলের ভিতর থেকে রীতিমতো বিভিন্ন জায়গায় ফোন করত। জেলের ভিতরে বসে বাইরে তোলাবাজি এবং বিভিন্ন অবৈধ কারবারে মদত দিত জাহাঙ্গীর। তাদের কাছ থেকে মোবাইল বাজেয়াপ্ত করার পর আবার দু’টি মোবাইল জেলের ভিতরে পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছিল। ঘটনায় রীতিমতো চিন্তিত জেল পুলিস আধিকারিকরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ