নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: অন্ধ্রপ্রদেশে নিয়ে যাওয়ার সময় শালিমার স্টেশনে পুলিসের হেফাজত থেকে পালালো মুর্শিদাবাদ থেকে মাদক আইনে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত। ধৃতের নাম চৈরুদ্দিন শেখ (৩৭)। বুধবার সকালের এই ঘটনায় ঘুম উড়েছে রেল পুলিসের। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে ধরতে মরিয়া জিআরপি ও অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিস। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযুক্তের খোঁজ মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।
গত মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা থেকে চৈরুদ্দিন শেখ নামের ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিস। বিশাখাপত্তনম সিটি পুলিসের চারজনের একটি দল অভিযান চালিয়ে চৈরুদ্দিনকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে অন্ধ্রপ্রদেশে যাওয়ার জন্য এদিন ভোরে হাওড়ার শালিমার স্টেশনে এসে পৌঁছয় পুলিসের দলটি। ট্রেন ছাড়ার আগে স্টেশনের এসি ওয়েটিংরুমে বসে অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। পুলিস জানিয়েছে, ওয়েটিংরুমে থাকাকালীন চৈরুদ্দিন শৌচালয়ে যাবে বলে পুলিসকে জানায়। তাকে নিয়ে দু’জন পুলিসকর্মী শৌচালয়ে ঢোকেন। অভিযুক্ত আচমকা ভিতরে ঢুকে দরজা আটকে দেয়। এরপর পিছনের জানালা টপকে পালিয়ে যায়। বেশ কিছুক্ষণ শৌচালয়ের বাইরে অপেক্ষা করার পর সাড়াশব্দ না পাওয়ায় সন্দেহ হয় দুই পুলিসকর্মীর। এরপর তার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। মাথায় হাত পড়ে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিসের। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা শালিমারে জিআরপি থানায় অভিযোগ জানান। রেল পুলিসের তরফে গোটা এলাকা তন্নতন্ন করে খোঁজা হয়। খতিয়ে দেখা হয় একের পর এক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। কিন্তু অভিযুক্তের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কোনও ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার দুই বাসিন্দা চৈরুদ্দিন শেখ ও মৌলা আলি দীর্ঘদিন ধরেই অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে গাঁজা নিয়ে আসত মুর্শিদাবাদে। এরপর তা পাচার করত বিভিন্ন জায়গায়। বছরখানেক আগে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে প্রায় ৬৭ কেজি গাঁজা মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসার সময় সেখানকার পুলিসের হাতে ধরা পড়ে মৌলা আলি। তবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় চৈরুদ্দিন। এরপর প্রায় আট মাস জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পায় মৌলা। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে তাকে একবার করে অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়ে পুলিসের কাছে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত দু’মাস সে হাজিরা দিতে না যাওয়ায় সে রাজ্য থেকে পুলিসের দলটি তাকে ধরতে মুর্শিদাবাদে আসে। এখানে আসার পর পুলিস গোপন সূত্রে জানতে পারে, আরেক অভিযুক্ত চৈরুদ্দিন লুকিয়ে আছে বেলডাঙ্গার গ্রামে। গত মঙ্গলবার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চৈরুদ্দিনকে। কিন্তু এদিন ট্রানজিট রিমান্ডে অন্ধ্রপ্রদেশে নিয়ে যাওয়ার আগেই ফের পুলিসের চোখে ধুলো দিয়ে ফের পালিয়েছে সে। শালিমার জিআরপির এক আধিকারিক বলেন, ‘অভিযুক্তকে খুঁজতে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিসের দলটি ফের মুর্শিদাবাদে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই পলাতক চৈরুদ্দিনের ছবি বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাওড়া ছাড়াও অন্যান্য জায়গায় তার
খোঁজ চলছে।’