ঢাকা: ইস্তফা নয়, আপাতত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদেই থাকছেন মহম্মদ ইউনুস। শনিবার এমনটাই দাবি করলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে যাবেন ইউনুস। এদিন হঠাত্ করেই উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক ডাকেন তিনি। এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল না। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে। বৈঠক সেরে বেরিয়ে এসে ওয়াহিদউদ্দিন জানান, ইউনুস ও অন্য সব উপদেষ্টা স্বপদে থাকছেন। কেউ ইস্তফা দিচ্ছেন না। সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। কাউকে কিছু না জানিয়ে ইউনুস সরকার যেভাবে জাতীয় ইস্যুতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওয়াকার। সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারির পরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোড়ন শুরু হয়। বৃহস্পতিবার হঠাত্ই জল্পনা শুরু হয়, ইউনুস পদত্যাগ করতে চলেছেন। সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছিলেন, পদত্যাগ করতে চাইছেন ইউনুস। তারপরেই বাংলাদেশে হইচই শুরু হয়ে যায়।
যদিও এদিন পরিকল্পনা উপদেষ্টা পাল্টা দাবি করেছেন, ‘উনি (ইউনুস) তো চলে যাওয়ার কথা বলেননি। উনি বলেছেন, আমাদের উপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।’ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট জানা যায়নি। শনিবার সন্ধ্যার পর বিএনপি ও জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে বৈঠকে ইউনুস। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচনে দেরি হলে স্বৈরাচার ফিরে আসার ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। তার দায়িত্ব বর্তমান সরকারকে নিতে হবে। বৈঠক থেকে বেরিয়ে জামাতের আমির শফিকুর রহমান জানান, নির্বাচন কবে হবে, সেটা স্পষ্ট করা দরকার। এর জন্য রোডম্যাপ প্রয়োজন।বিএনপি আগেই জানিয়ে দিয়েছে, ইউনুস পদত্যাগ করতে চাইলে করতেই পারেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশও পুরো বিষয়টিকে ‘নাটক’ বলে দাবি করেছিল। শনিবার ঢাকার শাহবাগে ইউনুসের সমর্থনে মিছিলের আয়োজন করা হয়। ইউনুস সরকারকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখার দাবি জানানো হয়। তবে বিপুল জনসমাগমের কথা বলা হলেও বাস্তবে মিছিলে খুব বেশি লোক হয়নি। এদিকে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে ইউনুসের শপথগ্রহণই বেআইনি বলে দাবি করেছেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সমাজমাধ্যমে একটি তালিকা পোস্ট করে জয় দাবি করেছেন, হাসিনা সরকারের পতনের সময় প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নিরাপত্তাজনিত কারণে সেনার হেফাজতে ছিলেন। তাহলে ইউনুসকে শপথবাক্য পাঠ করানোর জন্য তিনি কীভাবে অনুমতি দিয়েছিলেন? জয়ের অভিযোগ, প্রধান বিচারপতির সই জাল করে ইউনুসকে ক্ষমতায় বসানো হয়।
এই পরিস্থিতিতে সামনে এসেছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও বার্তা। ফেসবুকে তিনি মহম্মদ ইউনুস এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। হাসিনা জানিয়েছেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকাকে দিতে চাননি বলে বঙ্গবন্ধুকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তাঁর সরকারকেও উৎখাত হতে হল। মহম্মদ ইউনুসকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে তোপ দেগেছেন হাসিনা। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে ৬ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করতেন ইউনুস। তিনি এখন দেশ ও বিদেশে কীভাবে এত টাকার সম্পত্তির মালিক হলেন?