সংবাদদাতা, বনগাঁ: ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের কাহিনি সামনে এল! বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি সন্দেহে বাগদার দম্পতিকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল মুম্বই পুলিস। অভিযোগ, সেখানে মহিলাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা দেওয়া হয়নি জলও। তারপর ওই দম্পতিকে আরও অনেকের সঙ্গে তুলে দেওয়া হয় বিএসএফের হাতে। ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বিএসএফ জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বা পুশব্যাক করে বলে অভিযোগ। অবশেষে রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক ওয়েলফেয়ার বোর্ডের হস্তক্ষেপে দেশে ফেরেন বাগদার সেই দম্পতি ফজের মণ্ডল ও তসলিমা মণ্ডল। সোমবার রাতে রায়গঞ্জ পুলিসের পক্ষ থেকে দম্পতিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফেরানো হয়। মঙ্গলবার বাগদার হরিহরপুরে নিজের বাড়িতে ফিরে মহারাষ্ট্রের পুলিসের অত্যাচারের কাহিনি শোনান ওই দম্পতি।
জানা গিয়েছে, মাস ছ’য়েক আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে সস্ত্রীক মুম্বই পাড়ি দিয়েছিলেন ফজের মণ্ডল। গত ১০ জুন বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁদের আটক করে পুলিস। তাঁদের একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। কয়েকজন মহিলার সঙ্গে ফজেরের স্ত্রী তসলিমাকে অন্য একটি ঘরে টানা ১২ ঘণ্টা কিছু খেতে না দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এমনকী জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল, টাকা, গয়না। নষ্ট করে দেওয়া হয় সব পরিচয়পত্র। তসলিমা বলছিলেন, ‘১০ তারিখ রাত ২টোর সময় আমাদের তুলে নিয়ে যায় মুম্বই পুলিস। আমাকে আলাদা একটি ঘরে আটকে রেখেছিল। অন্য কয়েকজনকে ছেড়ে দিলেও আমাদের নিয়ে এসে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’
তাঁরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিজিবি তাঁদের আটক করে ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ একটি ঝুপড়িতে রাখে। সেখান থেকে কোনওভাবে ফোন করে বাড়িতে খবর দেন ফজের। তিনি বলেন, ‘বাড়ি ফিরতে পারব বলে মনে হচ্ছিল না একটা সময়। তবে প্রশাসনের উপর আস্থা রেখেছিলাম।’ পরবর্তী সময়ে ফের কি ভিন রাজ্যে কাজে যাবেন? ফজের বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। কাজ আমাদের করতেই হবে। নিজের দেশে যেখানে ইচ্ছা যাব। কেন এভাবে হয়রানি হতে হবে?’ ছেলে-বউমাকে ফিরে পেয়ে খুশি ফজেরের বাবা তাহাজুল মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘মুম্বই পুলিস আমার ছেলে-বউমার উপর অমানুষিক অত্যাচার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওদের ফিরে পেয়েছি।’ রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক ওয়েলফেয়ার বোর্ডের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম বলেন, ‘মহারাষ্ট্র পুলিস বাংলাদেশি সন্দেহে ওঁদের বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। ভারতের বৈধ পরিচয়পত্র ও নথি দেওয়া সত্ত্বেও কোনও কথা শোনা হয়নি।’