Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে ১০০ দিনের কাজে ১১১ কোটি টাকা অপব্যবহার: প্রদীপ

দেশের যেসব জায়গায় ডবল ইঞ্জিন সরকার আছে সেরকম ১৫টি রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের তহবিলে অপব্যবহার হওয়া সত্ত্বেও টাকা দেওয়া হচ্ছে।

ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে ১০০ দিনের কাজে ১১১ কোটি টাকা অপব্যবহার: প্রদীপ
  • ১২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: দেশের যেসব জায়গায় ডবল ইঞ্জিন সরকার আছে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বন্ধু সরকার রয়েছে সেরকম ১৫টি রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের তহবিলে অপব্যবহার হওয়া সত্ত্বেও টাকা দেওয়া হচ্ছে। ওসব রাজ্যে এর পরিমাণ ১১১ কোটি টাকা। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ টাকা। আর পশ্চিমবঙ্গে পরিমাণ মাত্র পাঁচ কোটি টাকা। তারমধ্যে আবার আড়াই কোটি টাকা উদ্ধারও হয়েছে। অর্থাৎ উদ্ধারের পরিমাণ এখানে ৫০ শতাংশ। অথচ তারপরেও পশ্চিমবঙ্গ ১০০ দিনের কাজের টাকা, কর্মদিবসের অনুমোদন পায়নি। শুক্রবার কোচবিহারে এসে এমনই পরিসংখ্যান দিয়ে কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। পাশাপাশি কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নের কাজ ভালো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

Advertisement

দুই জেলার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে শুক্রবার কোচবিহার রবীন্দ্রভবনে বৈঠক করেন মন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন দপ্তরের দুই প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না, শিউলি সাহা, দপ্তরের সচিব পি উল্গানাথন। 
এদিন জেলায় এসে প্রথমে কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেন মন্ত্রী। মন্দিরের বাইরে সাফাইয়ের কাজেও শামিল হন। বৈঠক শেষে ফেরার পথে চকচকা শিল্পকেন্দ্রে গিয়ে প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট পরিদর্শন করেন। 
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্যই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সাল থেকে লাগাতার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু কেন্দ্র বঞ্চনা করে গ্রামকে টার্গেট করেছিল। ওদের হয়তো ধারণা ছিল গ্রামকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারলেই এখানে ওদের স্বপ্ন সফল হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তা হতে দেননি। তিনি আরও বলেন, টাকা খরচের নিরিখে কোচবিহার ভালো জায়গায় আছে। উত্তরবঙ্গের তিন জেলা ঘুরলাম। তিন জেলাতেই ভালো কাজ হচ্ছে। কোচবিহার জেলা প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা পেয়েছে। 
দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, কোচবিহারে এসে রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনায় মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিয়েছি। 
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের কাজ, বাংলা আবাস যোজনার কাজ জেলায় ভালো হচ্ছে। কোচবিহার জেলায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার বাড়ির প্রথম কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। এর মধ্যে ৯৯ শতাংশ উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। বাকি ১ শতাংশ যাতে দ্রুত কাজে হাত দেন সেই ব্যাপারে বিডিওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৮১ শতাংশ কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দিয়েছে। পঞ্চায়েতে ৬৬ শতাংশ কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ৬৭ শতাংশ গড় খরচের তুলনায় কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা অনেকটাই এগিয়ে। পাশাপাশি যেসব প্রকল্পের টাকা পড়ে আছে সেসব কাজও দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ