Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টাকা দিলেই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য থেকে মিলছে গাড়ির সিএফ, বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, ইতিমধ্যেই চিহ্নিত ৬,৫০০ গাড়ি, বিঘ্নিত পথ নিরাপত্তা

১০০ দিনের টাকা, আবাস যোজনা সহ এক গুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা দীর্ঘদিন আটকে রেখে মোদি সরকার বাংলাকে ভাতে মারতে চাইছে।

টাকা দিলেই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য থেকে মিলছে গাড়ির সিএফ, বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, ইতিমধ্যেই চিহ্নিত ৬,৫০০ গাড়ি,  বিঘ্নিত পথ নিরাপত্তা
  • ২৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১০০ দিনের টাকা, আবাস যোজনা সহ এক গুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা দীর্ঘদিন আটকে রেখে মোদি সরকার বাংলাকে ভাতে মারতে চাইছে। রাজ্যের শাসক দলের তরফে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এবার কেন্দ্র নয়, একাধিক ‘ডাবল ইঞ্জিন’ (বিজেপি বা এনডিএ শাসিত) রাজ্যের কারণে ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। শুধু তাই নয়, একই কারণে রাজ্যের সার্বিক পথ নিরাপত্তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। ঘটনা হল, বাংলায় রেজিস্ট্রেশন হওয়া গাড়ি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সিএফ (সার্টিফিকেট অব ফিটনেস) করিয়ে নিচ্ছে কোনও না কোনও বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে। ন্যূনতম পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়াই মিলে যাচ্ছে গাড়ির সুস্বাস্থ্যের শংসাপত্র। ফলে গাড়ির সিএফ বাবদ রাজস্ব থেকে যেমন রাজ্য বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি বিধি মেনে রাস্তায় চলার অনুপযুক্ত গাড়িও দিব্যি ছুটে বেড়াচ্ছে রাস্তায়। বিঘ্নিত হচ্ছে পথ নিরাপত্তা।  

Advertisement

কীভাবে চলছে এই কারবার? স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে গাড়ির সিএফ পাইয়ে দিতে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ কেন্দ্র গড়ার ছাড়পত্র দিয়েছে। কেন্দ্রগুলির পোশাকি নাম অটোমেটেড টেস্টিং স্টেশন বা এটিএস। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, বিহারের মতো বিজেপি বা এনডিএ শাসিত রাজ্যের অধিকাংশই এটিএস তৈরি করে তার নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি হাতে তুলে দিয়েছে। সূত্রের দাবি, এই এটিএসগুলির মাধ্যমেই পরিবহণ ক্ষেত্রে রমরমিয়ে চলছে আন্তঃরাজ্য দুর্নীতি চক্র। নিয়ম হল, গাড়ির সিএফ করাতে গেলে সেটি সংশ্লিষ্ট আরটিও অফিসে নিয়ে যেতে হয়। মোটর ভেহিকল ইনসপেক্টর গাড়ির অবস্থা নিজেই খতিয়ে দেখেন। কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে তা ঠিক করার পরামর্শ দেন। তারপর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সিএফ চার্জ জমা দিলে মেলে ফিটনেস সার্টিফিকেট। আইন বলছে, সিএফের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে যতদিন তা রিনিউ না করানো হচ্ছে, ততদিন দৈনিক ৫০ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। এই খাতে ভালো পরিমাণ টাকা আয় হয় রাজ্যের। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযানে সামনে আসে বিরাট কেলেঙ্কারি! দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন হওয়া গাড়ি সিএফ জোগাড় করেছে অন্য কোনও বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে। অথচ, সেই গাড়িটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পরীক্ষার জন্য সেখানে নিয়ে যাওয়াই হয়নি। বাড়তি টাকার বিনিময়ে বাংলায় বসেই মিলে গিয়েছে বিহার, উত্তরপ্রদেশ বা অন্য কোনও রাজ্যের এটিএসের দেওয়া সিএফ। এখনও পর্যন্ত এই ধরনের ৬,৫০০ গাড়ি ধরা পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা। পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমরা এই ঘটনা মেনে নেব না। রাস্তায় নামার অযোগ্য গাড়ি বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে জাল সিএফ করিয়ে আনছে। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে? পরিবহণ সচিব বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দেবেন। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। সমস্ত এটিএস-কে জিও ট্যাগিংয়ের আওতায় আনার দাবি তোলা হবে, যাতে ভিন রাজ্য থেকে সিএফ করানো গাড়ি আদৌ সেখানে গিয়ে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়েছে কি না, সহজেই জানা যায়।’ পাশাপাশি, বেআইনিভাবে সিএফ করানো গাড়িগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। সূত্রের দাবি, ক্ষতি হওয়া রাজস্ব সংশ্লিষ্ট গাড়ি থেকেই আদায় করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ