Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ওদের টুপি পরবেন না, আমাদের বই-ই পড়ুন’, বই বিক্রি ঘিরে দড়ি-টানাটানি ছাত্র-যুবদের

কার কাউন্টার থেকে বই কিনবেন লালের ব্রিগেডে আসা কর্মী-সমর্থকরা? তাই নিয়ে রীতিমতো ‘দরাদরি’ রবিবারের ব্রিগেড ময়দানে।

‘ওদের টুপি পরবেন না, আমাদের বই-ই পড়ুন’, বই বিক্রি ঘিরে দড়ি-টানাটানি ছাত্র-যুবদের
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কার কাউন্টার থেকে বই কিনবেন লালের ব্রিগেডে আসা কর্মী-সমর্থকরা? তাই নিয়ে রীতিমতো ‘দরাদরি’ রবিবারের ব্রিগেড ময়দানে। জোর লড়াই ছাত্র-যুবদের। ছাত্র সংগ্রাম ও যুবশক্তি দুই স্টলে উপচে পড়ছে ভিড়। ছাত্র সংগ্রাম স্টলের নেতৃত্বে এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে এবং যুবশক্তি স্টলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুব সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি সাহা। এক হাতে টুপি ও অন্য হাতে বই তুলে ক্রেতাদের ‘হাঁক’ দিচ্ছেন ধ্রুবজ্যোতি। ঠিক বই পাড়ার মতোই পাশের ছাত্র সংগ্রাম স্টলের থেকে ছাত্র-কর্মীরা হাঁক দিচ্ছেন ‘ওদের টুপি পরবেন না, আমাদের বই পড়ুন’। হাতে বই নিয়ে ক্রেতাদের কাছে এগিয়ে যাচ্ছেন এসএফআই কর্মীরা। দু’তরফেই ক্রেতাদের জন্য বই কিনলে ছাড়ের ব্যবস্থা। এভাবেই ব্রিগেডের মাঠে দিনভর জমজমাট থাকল ছাত্র-যুব’র বইয়ের স্টল।

Advertisement

অন্যদিকে, এদিন দেদার টুপি বেচলেন পার্ক সার্কাসের বাসিন্দা মহম্মদ ইয়াকুব। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তিনি টুপি নিয়ে ব্রিগেডের মাঠে পসরা সাজিয়েছেন। ৭০০টি লাল টুপি নিয়ে এসেছিলেন। বেলা ১২টার মধ্যেই তাঁর ৪০০ টুপি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। প্রত্যয়ী ইয়াকুব বলেন, ‘লালের ব্রিগেড ছাড়া আসি না। ক্ষমতায় থাক বা না থাক, সব বিক্রি হয়ে যাবে। আমি নিশ্চিত বস্তা খালি করেই বাড়ি ফিরব।’
এদিকে ডিম-ভাতের ‘গন্ধ’ লালের ব্রিগেডেও। ডিম-ভাত পেটে পুরে ব্রিগেডমুখী বামকর্মীরা। তৃণমূল কংগ্রেসের একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের মতোই বাম গণসংগঠনের ডাকে ব্রিগেডেও ‘হিট’ ডিমভাত। কাটোয়া থেকে এসেছিলেন শ’খানেক কমরেড। হাওড়া স্টেশনে নেমে মিছিল করে তাঁরা ধর্মতলায়। সেখানে এসে ভরপেট ডিম-ভাত খেলেন বাম-কর্মীরা। বর্ধমানের এক কর্মীর কথায়, ‘কম পয়সায় পেট ভরে। ডিম-ভাত তো মেহনতি মানুষের খাবার।’ 
অন্যদিকে, উলুবেরিয়ায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে তাঁতিবেড়িয়ায় ব্রিগেডমুখী জনতা পিকনিকের মুডে। কখনও উড়ালপুলের নীচে রাস্তার উপর বসে মাংসের ঝোল-ভাত খাওয়া, আবার কখনও-বা উড়ালপুলের উপরেই ডিমের ঝোল-ভাতে পেটপুজো। খাওয়ার পর ব্রিগেডের পথে রওনা দেওয়া। বছর সত্তরের জগন মান্ডি জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে ব্রিগেডে যাচ্ছি। আগে বাড়ি থেকে মুড়ি নিয়ে যেতাম। এবার দলের পক্ষ থেকে মাংসের ঝোল, ভাত রান্না করে নিয়ে আসা হয়েছিল। মাঝপথে রাস্তার উপর ছায়ায় বসে এইভাবে খাওয়া ভালোই লাগল।’
এদিকে মঞ্চে তখন বন্যা টুডু। ‘জ্বালাময়ী’ ভাষণ দিচ্ছেন। কিন্তু সবাই শুনছে কই! বেলা ৪টে বাজতেই বাড়ির পথে ব্রিগেডের জনতা। ‘আর শোনার সময় নেই, বাড়ি যাব’—বললেন লাল কর্মীরা। কেউ ফিরবেন কাটোয়া, কেউ বিষ্ণুপুর, কেউ আবার মেদিনীপুর। আর মহম্মদ সেলিম যখন মঞ্চে বলতে উঠলেন তখন প্রায় অর্ধেক মাঠ ফাঁকা। 

সম্পর্কিত সংবাদ