


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বিশ্বচর্চিত সাবেক ফরাসি কলোনি চন্দননগরের আলোকশিল্প। এবার চন্দননগর ও তার আলোক শিল্পের মুকুটে জুড়ছে নয়া পালক। শিল্প, শিল্পী এবং তাঁদের ইতিহাস, ভূগোলকে তথ্যচিত্রে ধরেছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী তথ্যচিত্রকার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। ৭৪ মিনিটের সেই পূর্ণাবয়ব তথ্যচিত্রের নাম ‘দ্য র্যাকেন্টার অব দি ডার্ক—আঁধারপটুয়া’। অভিজিৎবাবু হুগলি জেলারই ভূমিপুত্র। বৈদ্যবাটির বৈদ্যপাড়ার বাসিন্দা। তিনি জানিয়েছেন, আজ, শুক্রবার নন্দত-৩ এ সেই তথ্যচিত্রের প্রথম প্রদর্শনী হবে। সামনেই আসছে জগদ্ধাত্রী পুজো। আবারও আলোকমালায় সাজবে শহর চন্দননগর। দেশদেশান্তর থেকে আসবেন মানুষ। সেই আবহে চন্দননগরের আলোকশিল্পের জন্মচর্চা বাড়তি মাত্রা জুড়বে।
বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত মেয়র রাম চক্রবর্তী থেকে কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ। তাঁরা বলছেন, অত্যন্ত পরিতৃপ্তির বিষয়। একটি শহরের নিজস্ব শিল্প তথ্যচিত্রের বিষয় হলে গর্ববোধ হয়। আমরাও শহরবাসী হিসেবে গর্বিত। সম্প্রতি নন ফিকশন ক্যাটিগরিতে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন বৈদ্যবাটির তথ্যচিত্র পরিচালক অভিজিৎ। তিনি বলেন, শ্রীধর দাস ওই শিল্পের জনক। তাঁর নিজের তেমন পড়াশোনা ছিল না। বাড়িতে আলোও ছিল না। অথচ তিনিই বিশ্বখ্যাত একটি শিল্পধারার জন্ম দিয়েছেন। চন্দননগর এখনও সেটিকে লালনপালন করছে। চন্দননগরের আলোতে সাজছে রামমন্দির। শুনেছি জিম্বাবোয়ের হারারে শহরের পার্কে বসেছে চন্দননগরের শিল্পীদের আলো। কিন্তু আজও সেই শিল্পকলাকে আমরা নাম দিতে পারিনি। তাঁরা ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হয়ে আছেন। সেটিই আমার তথ্যচিত্রের প্রাণ।
যেমন শ্রীধর ও তাঁর পরবর্তী প্রজন্মকে ‘আঁধারপটুয়া’তে ধরেছেন অভিজিৎ তেমনই খুঁজে এনেছেন অজানা ইতিহাস। বিখ্যাত সিনেমা গুপি গাইন বাঘা বাইন দেখেননি এমন বাঙালি মেলা ভার। সেখানে ভূতের রাজার পিছনের বিখ্যাত আলোকসজ্জা চন্দননগরের শিল্পীরাই করেছিলেন। এমনই নানা অজানা ইতিহাসের তথ্যচিত্রায়নে আরও একবার চর্চায় আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে ঐতিহাসিক চন্দননগর ও তার আলোকশিল্প। সৌজন্যে এক ভূমিপুত্রের ভাবনা ও ক্যামেরা।