নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একমাত্র শিশুপুত্রের বয়স যখন ছয়, মৃত্যু হয় প্রথম স্ত্রী’র। তাও সেটা বছর চারেক আগের ঘটনা। ফের বসিরহাটের প্রসন্নকাটি এলাকার এক মহিলাকে বিয়ে করে অশোকনগর কাঁকপুল এলাকার বাসিন্দা পিন্টু ঘোষ। কিন্তু আট-দশ মাস পর থেকেই ‘আচার-আচরণগত’ নানা কারণে সেই স্ত্রী’র সঙ্গেও পিন্টুর ঝামেলা শুরু হয়। নিত্য ঝগড়া-বিবাদ। সেই কলহ পৌঁছে যায় আদালত পর্যন্ত। এখন বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে দম্পতির। সতীন পুত্রকে ছেড়ে রেখেই বাপের বাড়ি ফিরে গিয়েছেন দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী।
এই আবর্তে ১০ বছর বয়সি প্রথমপক্ষের সেই পুত্রের কী হবে! ভেবেচিন্তে উপায় বের করে পিন্টু। নানা কথায় ভুলিয়ে ছেলেকে মোটর বাইকে চাপিয়ে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গাছা-আখারপুর পঞ্চায়েতের প্রসন্নকাটি গ্রামে পৌঁছয় পিন্টু। ‘তুই এখানেই থাক। আমি এখনই আসছি’—গ্রামের এক নির্জন প্রান্তে শিশুপুত্রকে দাঁড় করিয়ে চম্পট দেয় ‘অমানবিক’ বাবা! দীর্ঘক্ষণ পার হলেও, বাবা না ফেরায় কান্নাকাটি জুড়ে দেয় নাবালক। কান্নার আওয়াজ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে উদ্ধার করে ভীত-সন্ত্রস্ত শিশুটিকে। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। নাবালককে বসিরহাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ কাকুদের কাছে বাড়ি ফিরে যাওয়ার বায়না শুরু করে শিশুটি। কোনওমতে শান্ত করা হয় তাকে। এরপর পুলিশ খবর দেয় জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে (সিডব্লুসি)। আপাতত শিশুটিকে হোমে পাঠানো হয়েছে। সিডব্লুসি গোটা বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। অশোকনগরের ‘কীর্তিমান’ বাবার এহেন কুকীর্তি প্রকাশ্যে আসার পর তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে। বাবা-মায়ের কলহের বলি কেন একজন শিশু হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অশোকনগর ও বসিহাটের দুই প্রান্তেই।
সূত্রের খবর, মা মারা যাওয়ার পর বাবা দ্বিতীয়বারের জন্য বিয়ে করলেও, কাঁকপুলের বাসিন্দা ওই শিশুর জীবনযাত্রা কিন্তু সুগম হয়নি। বরং অবহেলা বেড়েছে পদে পদে। তার আচরণগত নানা কারণে অসন্তুষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সতীনপুত্রের দায়িত্ব নেওয়া নিয়েও পিন্টুর সঙ্গে বিবাদ শুরু হয় দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী’র। সেই বিবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যেখানে বাপের বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলাও শুরু হয়। এই পর্বে ছেলের প্রতি পিন্টুর ব্যবহারের পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিল অনেকেই। অবহেলাও বাড়ছিল বলে জানিয়েছেন অনেকে। আর তাই রাত ১০টার পরে নির্জন সীমান্তের হিমেল আবহাওয়ার মধ্যে একমাত্র সন্তানকে ছেড়ে দিয়ে আসতে একবারের জন্যও মন বিচলিত হয়নি পিন্টু ঘোষের—এমনটাই মনে করছে সিডব্লুসি। সিডব্লুসি’র সদস্য রীতা পাল বলেন, ওই শিশুটির বাবার আচার-আচরণ ভালো মনে হয়নি। তাই শিশুটিকে এখনই তার হাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। বাচ্চাটিকে হোমে রাখা হয়েছে। এরপর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। তারপরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। বসিরহাট পুলিশের এক কর্তা বলেন, পিন্টু ঘোষের দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রীর বাপের বাড়ি প্রসন্নকাটিতে। সেখানেই যাবে বলে ছেলেকে মোটরবাইকে চাপিয়ে নিয়ে এসেছিল। মাঝরাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।