Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিন্ডার তুতো ভাই মণ্ডল সভাপতি, ক্ষোভ পদ্মে

ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্ডার বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগে সরব দলেরই একাংশ।

দিন্ডার তুতো ভাই মণ্ডল সভাপতি, ক্ষোভ পদ্মে
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্ডার বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগে সরব দলেরই একাংশ। তিনি নাকি প্রভাব খাটিয়ে খুড়তুতো ভাইকে মণ্ডল সভাপতি করেছেন। রবিবারই বিজেপির জেলা সভাপতি মলয় সিংহ পাঁচটি মণ্ডলের সভাপতির নাম ঘোষণা করেছেন। ময়না ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি হিসেবে ঘোষিত হয়েছে সাধন দিন্ডার নাম। সাধনবাবু সম্পর্কে অশোক দিন্ডার খুড়তুতো ভাই। আগে ওই মণ্ডলের সভাপতি ছিলেন সুখেন্দু জানা। মাত্র দেড় বছরের মধ্যে তাঁকে সরিয়ে বিধায়কের ভাইকে মণ্ডল কমিটির সভাপতি করা হল। সাধনবাবু পেশায় পাইকারি বস্ত্র ব্যবসায়ী। রাধামণি বাজারে তাঁর বড় দোকান আছে। পার্টিঅন্ত প্রাণ নেতাদের বাদ দিয়ে কেন সাধনবাবুকে সভাপতি করা হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দলের অনেকেই। অভিযোগকারীদের ধারণা, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে অশোক তাঁর ঘনিষ্ঠদের সাংগঠনিক পদে রাখতে চাইছেন। এ বিষয়ে অশোক দিন্ডার বক্তব্য জানতে তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও জবাব দেননি। 

Advertisement

ময়না বিধানসভার অন্তর্গত অনন্তপুর-২ এবং নীলকুণ্ঠা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির ময়না ৪ নম্বর মণ্ডলের মধ্যে পড়ে। অশোক দিন্ডার বাড়ি অনন্তপুর-২ পঞ্চায়েতেই। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে প্রায় ছ’ মাস ওই মণ্ডলের সভাপতি ছিলেন সাধন দিন্ডা। কিন্তু, পঞ্চায়েত নির্বাচনে নীলকুণ্ঠা ও অনন্তপুর-২ পঞ্চায়েতে বিজেপি গোহারা হারে। নীলকুণ্ঠা পঞ্চায়েতে ২৭টি বুথের মধ্যে বিজেপি মাত্র দু’টিতে জয়ী হয়। অন্তপুর-২ পঞ্চায়েতে ১৭টির মধ্যে তৃণমূল ১৪টি এবং বিজেপি তিনটি বুথ থেকে জয়ী হয়। দু’টি পঞ্চায়েতে খুব খারাপ ফলাফলের পর মণ্ডল সভাপতির পদ থেকে সাধনবাবুকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় সুখেন্দু জানা সভাপতি হন। সুখেন্দুর সভাপতিত্বে গত লোকসভা ভোটে বিজেপি ওই দুই পঞ্চায়েতে বেশ ভালো ফল করে। নীলকুণ্ঠা পঞ্চায়েত থেকে ৭১৩ ভোটের লিডও পায়। 
বিজেপি সূত্রে খবর, সাংগঠনিক নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন ময়না ৪ মণ্ডলের সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে সুখেন্দু জানা, বিশ্বজিৎ ঘড়া ও চন্দন বেরার নাম উঠে আসে। সেই তালিকা জেলায় পৌঁছয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই তিনজনের কেউই সভাপতির পদ পাননি। তাঁদের টপকে ফের মণ্ডল সভাপতি হলেন একদা ব্যর্থতার জেরে পদ খোয়ানো সাধন দিন্ডা। এই খবর জানাজানি হতেই অনন্তপুর-২ এবং নীলকুণ্ঠা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। এও জানা গিয়েছে, ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বিধায়কের ভাই এবার মণ্ডল সভাপতি হতে নিমরাজি ছিলেন। পার্টি নেতৃত্বকে সেকথা আগাম জানিয়েও রেখেছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁকেই সভাপতি করা হল। অপসারিত সভাপতি সুখেন্দু জানাও এক সময়ে অশোকের ঘনিষ্ঠই ছিলেন। কিন্তু, সম্ভবত ’২৬-এর বিধানসভা ভোটে আরও বিশ্বস্ত সেনাপতি চান ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন খেলোয়াড় অশোক। সে জন্যই সাধনবাবুর পদপ্রাপ্তি বলে অনেকেই মনে করছেন।
ওই মণ্ডল কমিটির সভাপতির দৌড়ে থাকা দলের কিষাণ মোর্চার জেলা সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘড়া বলেন, সাধনবাবু সম্পর্কে বিধায়কের খুড়তুতো ভাই। মণ্ডল সভাপতি হওয়ার পেছনে সম্ভবত এই ফ্যাক্টরই কাজ করেছে। 
সাধন দিন্ডা বলেন, আমি ২০২৩ সালে মাস ছ’য়েক মণ্ডল সভাপতি ছিলাম। তারপর জেলা কমিটির সদস্য হই। অশোক দিন্ডা ২০২১ সালে দলে এসেছেন। কিন্তু, আমি ২০১৪ সাল থেকে বিজেপি করছি। আমি পেশায় ব্যবসায়ী। তাছাড়া, জেঠতুতো দাদা বিধায়ক থাকায় আমি মণ্ডল সভাপতি হতে চাইছিলাম না। কারণ, এতে অনেকেই বিধায়কের হাত রয়েছে বলে প্রচার চালাতে পারেন। যাই হোক, দল শেষমেশ আমাকে বেছে নিয়েছে। আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ