শ্রীকান্ত পড়্যা: পুরী শ্রীক্ষেত্র ধাম থেকে দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের দূরত্ব ৩৭৫ কিলোমিটার। পুরীর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের তীরে দীঘাতেও এই প্রথম রথযাত্রায় শামিল হবেন প্রায় দু’লক্ষ ভক্ত। ভক্ত-ভগবানের মিলন মেলা দেখতে টিভির পর্দায় চোখ রাখবেন আরও কয়েক লক্ষ মানুষ। তীর্থস্থান হিসেবে ইতিহাস তৈরি করার পর দীঘার প্রথম রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনার শেষ নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে প্রথমবারের রথযাত্রা এককথায় ঐতিহাসিক হতে চলেছে। গোটা রাজ্য থেকে ভক্তরা এসেছেন দীঘায় প্রভুর আলয় থেকে মাসির বাড়িতে যাওয়ার সাক্ষী হতে।
আজ, রথযাত্রার দিন সকাল ৬টায় মন্দিরের গেট খুলে যাবে। ভক্তরা মন্দিরের ভেতরে ঢুকে প্রভুকে দর্শন করতে পারবেন। তারপর মঙ্গলারতি হবে। সকাল ৭টা নাগাদ ভোগ নিবেদন করা হবে। ৯টায় জগন্নাথ প্রভুকে ছাপান্ন ভোগ দেওয়া হবে। সকাল ১০টায় পহণ্ডী বিজয় অনুষ্ঠান শুরু হবে। ৫০ জন বিদেশি ভক্ত সহ মায়াপুর ইস্কনের ভক্তরাও রথযাত্রায় শামিল হবেন। বেলা ১২টা নাগাদ খোল-করতালের ছন্দে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গর্ভগৃহ থেকে প্রভু জগন্নাথকে রথে চড়ানো হবে। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে এই অনুষ্ঠান চলবে। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, মন্দির প্রাঙ্গণে রথের উপর প্রভুকে দেখতে বিপুল জমায়েত হবে। বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৩-৪টা পর্যন্ত প্রভুর দর্শন মিলবে। তারপর বেলা গড়িয়ে এলে জগন্নাথ মন্দির থেকে রথ রওনা দেবে মাসির বাড়ির দিকে। পর পর তিনটি রথ থাকবে। প্রতিটি রথের সঙ্গে পৃথক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার দল থাকবে। দু’দিকে বাঁশের ব্যারিকেড ঘেরা রাস্তার মাঝখান দিয়ে এগিয়ে যাবে রথ।
রথ টানার সময় যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সতর্ক প্রশাসন ও পুলিস। ভিড় মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত পুলিস বাহিনী থাকছে। বাঁশের ব্যারিকেডের দু’ধারে ভক্তরা দাঁড়িয়ে রথের রশি টানবেন। দীঘায় প্রথম রথযাত্রায় রামকৃষ্ণ মিশন, জয়রামবাটি ও কামারপুকুর, আদ্যাপীঠ মন্দির, দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির, বেলুড় মঠের মতো প্রতিষ্ঠানের সাধু, সন্ন্যাসী ও সেবকরা থাকবেন বলে খবর। এছাড়াও ক্রীড়া, বিনোদন, সঙ্গীত জগতের সেলেব্রিটিদের থাকার কথা।
২০১৯ সালে স্টেশন সংলগ্ন ১১৬বি জাতীয় সড়ক লাগোয়া ভগীব্রহ্মপুর মৌজায় ডিএসডিএফের ২০ একর জমি চিহ্নিত করা হয়। প্রাথমিকভাবে এজন্য ১৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই খরচ বেড়ে যায়। ২০২২ সালে মে মাসে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন মন্দিরের শিলান্যাস হয়। গত ৩০ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে উদ্বোধন হয় দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের। স্বাধীনতার পর এরাজ্যে এমন স্থাপত্যের নিদর্শন বিরল বলেই অনেকের বক্তব্য।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের উচ্চতা ৬৫ মিটার (২১৩ ফুট)। সমুদ্র থেকে প্রায় ৩৭০ মিটার উত্তরে এই মন্দির দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত ভিড় করছেন। মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো মন্দিরের কারুকাজ। অন্য রাজ্য থেকেও ভক্তরা আসছেন। এই জগন্নাথ মন্দিরে প্রথমবার রথযাত্রা ঐতিহাসিক হতে চলেছে।
জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, রথযাত্রার দিন সকাল ৬টায় মন্দিরের গেট খুলে যাবে। ভক্তরা ভগবানের দর্শন পাবেন। সকালে ভোগ দেওয়ার পর ১০টা নাগাদ পহণ্ডী বিজয় শুরু হবে। এই অনুষ্ঠান দেখতে বেশ ভালো লাগবে। বেলা ১২টা থেকেই রথের উপর প্রভুর দর্শন মিলবে। বিকেল ৪টার পর রথ টানা শুরু হবে।