Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিদির প্রকল্পই হাতিয়ার! রাস্তা-গণপরিবহণ, নিকাশির আরও উন্নতিসাধন লক্ষ্য শাসকের, ব্যবধান বাড়াতে প্রত্যয়ী তৃণমূল শিবির

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া লাগোয়া বিধানসভা কেন্দ্র সোনারপুর উত্তর। শহর সংলগ্ন, তাই শহরের হাওয়া এখানেও লেগেছে। গত কয়েক বছরে এলাকায় গজিয়ে উঠেছে একাধিক বহুতল।

দিদির প্রকল্পই হাতিয়ার! রাস্তা-গণপরিবহণ,  নিকাশির আরও উন্নতিসাধন লক্ষ্য শাসকের, ব্যবধান বাড়াতে প্রত্যয়ী তৃণমূল শিবির
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোহম কর, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া লাগোয়া বিধানসভা কেন্দ্র সোনারপুর উত্তর। শহর সংলগ্ন, তাই শহরের হাওয়া এখানেও লেগেছে। গত কয়েক বছরে এলাকায় গজিয়ে উঠেছে একাধিক বহুতল। এই বিধানসভা কেন্দ্রে রয়েছে রাজপুর সোনারপুর পুরসভার একাংশ, আবার বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতও রয়েছে। যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভায় ২০১১ সাল থেকে বিধায়ক তৃণমূলের ফিরদৌসি বেগম। এবারও তিনি প্রত্যয়ী। ইতিমধ্যেই এলাকায় দেওয়াল লিখনের নিরিখে এগিয়ে তৃণমূল। তবে রাস্তাঘাট, নিকাশি, গণপরিবহণ নিয়ে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। বিধায়ক সমস্যার কথা অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, বাকি কাজ করতে হবে।

Advertisement

একদা এই এলাকা সিপিএমের দখলে ছিল। ২০১১ সাল থেকে তাদের প্রভাব কমতে কমতে তলানিতে ঠেকেছে। এবার সিপিএম প্রার্থী হয়েছেন মোনালিসা সিনহা। ২০২১ সালেও তিনি প্রার্থী ছিলেন। গত পাঁচ বছরে পার্টিতে মোনালিসার গুরুত্ব বেড়েছে। তিনি মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদিকা হয়েছেন। ভোট কি ১২ শতাংশ থেকে তিনি বাড়াতে পারবেন? তা অবশ্য সময় বলবে। এখানে সংখ্যালঘু ভোটার ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। এসআইআরে নাম বাদ গিয়েছে ৩০ হাজারের কাছাকাছি। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ভোট পেয়েছিল ৩৫ শতাংশের আশপাশে। তবে ২০১৬ আর ২০২১ সালে তৃণমূল তাদের ৫০ শতাংশ ভোট কিন্তু ধরে রেখেছে। মাত্র কয়েকদিন আগে বিজেপি এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে প্রাক্তন আইপিএস দেবাশিস ধরকে। শীতলকুচির কাণ্ডের সময় তিনি ছিলেন কোচবিহারের পুলিশ সুপার। কম্পালসরি ওয়েটিংয়ে যাওয়ার পর চাকরি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন সোনারপুরের এই আদি বাসিন্দা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেশিরভাগ জায়গাতেই রাস্তাঘাট ভালো নয়। রাস্তা সারানো হয়, দিনকয়েক যেতে না যেতেই আবার তা ভেঙে যায়। তার উপর এই কেন্দ্রের একাংশে একটু ভারী বৃষ্টি হলেই জল দাঁড়িয়ে থাকে কম করে তিনদিন। বোড়াল, বাঘেরখোল, নলগড়ার মতো জনবহুল এলাকা থেকে কবি নজরুল মেট্রো কিংবা গড়িয়া যাওয়ার একমাত্র উপায় অটো। কিন্তু সময়ে অটো পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের বক্তব্য, গত পাঁচ বছরে অটোর ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণ। সরকারি বাসরুট থাকলেও, তা সংখ্যায় নগন্য। তৃণমূল প্রার্থী ফিরদৌসি বেগম বলছেন, ‘পানীয় জলের সমস্যা অনেকটাই মিটেছে। কিছু বাকি আছে, সেটা হয়ে যাবে। নিকাশির কাজ শুরু হয়েছে। ৩৪-৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে সমস্যা রয়েছে। পাম্প বসানোর কাজ হচ্ছে। পাশাপাশি দিদির ১০ প্রতিশ্রুতি তো আছেই। তার সঙ্গে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’ ফিরদৌসির ভরসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প। তিনি আপাতত ৩৬ হাজারের ব্যবধানকে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। সিপিএম প্রার্থী মোনালিসা বলছেন, ‘রাস্তাঘাটের কাজ হয়নি। নিকাশির বেহাল দশা। অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়েছে। গ্যাসের দাম বাড়ার জন্য অটোর ভাড়া বাড়ছে। তাই মানুষকে বলছি, বিকল্প একমাত্র বাম।’ বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ধর বলছেন, ‘নাজিরাবাদের ভয়াবহ ঘটনার কথা মানুষের সামনে তুলে ধরছি। নরেন্দ্রপুর থানা কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। আর এখানকার রাস্তা তো গাজা স্ট্রিপের মতো হয়ে গিয়েছে। গণপরিবহণের বেহাল দশা।’ ফিরদৌসি বলছেন, ‘এসআইআরের জন্য মানুষ কেঁদে কূল পাচ্ছেন না। আমাদের নেত্রী আছেন বলে, তাঁরা স্বস্তিতে আছেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ