সংবাদদাতা, বনগাঁ: কৃষি সমবায় নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গাইঘাটার সুটিয়া পাঁচপোতা এলাকা। গাইঘাটা পূর্ব বারাসত কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির নির্বাচন ছিল শনিবার। ১২ আসন বিশিষ্ট এই সমবায়ে নির্বাচনে বিরোধীরা অংশ নেয়নি। তৃণমূলের দুই পক্ষ নির্বাচনে অংশ নেয়। সুটিয়া পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মিহির বিশ্বাস বনাম স্থানীয় তৃণমূল নেতা দেবেন ঘোষের রাজনৈতিক লড়াইয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। ব্যালট ছিনতাই থেকে হাতাহাতিতে জড়ায় দু’পক্ষ। রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয় রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার সহ ১২ জন ভোটকর্মীকে। পরবর্তীতে বিশাল পুলিস বাহিনী আসে ঘটনাস্থলে। দু’পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর রাত ন’টা নাগাদ বের হয় রফাসূত্র। উদ্ধার করা হয় ভোটকর্মীদের।
গাইঘাটা পূর্ব বারাসত কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির মোট ভোটার ৭৯৩ জন। এদিন ৬৭৮ জন ভোটে অংশ নেন। দুপুর তিনটে নাগাদ ভোট গ্রহণ শেষ হয়। এরপর গণনা শুরু হতেই মিহির বিশ্বাসের গোষ্ঠীর প্রার্থীরা এগিয়ে যেতে থাকে। এই খবর বাইরে আসতেই উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ দেবেন ঘোষ ও তার দলবল ভোট কেন্দ্রে এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। ভোট কর্মীদের কাছ থেকে ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ভোট কর্মীদের আটকে রাখা হয়। এরই মধ্যে মিহির বিশ্বাসের অনুগামীরা দাবি তোলে, দেবেন ঘোষকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এবং তাঁদের প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দফায় দফায় দু পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে প্রশাসনের কর্তারা। রাত ৮টা নাগাদ বৈঠকে আলোচনা হয় মিহির বিশ্বাসের গোষ্ঠীকে ৮ টি আসনে জয়ী করা হবে। দেবেন ঘোষ গোষ্ঠী ৪ টি আসন পাবে। যদিও এই সিদ্ধান্ত প্রথমে মানতে নারাজ ছিল মিহির বিশ্বাসের গোষ্ঠী। বরং দেবেনকে গ্রেপ্তার করার জোরাল দাবি তোলে তারা। এবিষয়ে মিহির বিশ্বাস বলেন, আমরা জয়ী হলেও, দেবেন সহ তাঁর লোকজন ব্যালট ছিনতাই করেছেন। নির্বাচনে অশান্তি বাঁধিয়েছে।’ ব্যালট ছিনতাই হয়েছে বলে স্বীকার করলেও, তাঁর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দেবেন ঘোষ অস্বীকার করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘সিপিএম-বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে মিহির বিশ্বাস দলটাকে শেষ করে দিচ্ছেন।’ দীর্ঘ আলোচনার পর রাতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সমবায় সমিতির পরিচালন বোর্ডে মিহির গোষ্ঠীকে আটটি এবং দেবেন গোষ্ঠীকে চারটি আসন দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।