সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়নের খতিয়ান, অন্যদিকে বিরোধীদের হাতে ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো ভোটার বাদ যাওয়ার লিস্ট। এই নিয়েই এখন তরজা আমতা বিধানসভা কেন্দ্রে। তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, গত পাঁচ বছরে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে, তাতে গতবারের মতো এবারেও আমতা বিধানসভা এলাকার মানুষ তৃণমূলের উপর আস্থা রাখবেন। যদিও বিরোধী দলের প্রার্থীদের দাবি, এবার ভোটার তালিকা থেকে অনেক ভুয়ো ভোটার বাদ গিয়েছে। সুতরাং ফলাফল অন্য হবে।
হাওড়া গ্রামীণ জেলার অন্যতম বিধানসভা কেন্দ্র হল আমতা। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের অসিত মিত্র জয়লাভ করলেও ২০২১ সালের ভোটে তৃণমূল প্রার্থী সুকান্ত পাল ২৬ হাজারের কিছু বেশি ভোটে জিতে বিদায়ক হন। সুকান্ত পাল পেয়েছিলেন ৪৯.৪ শতাংশ ভোট। বিপক্ষে বিজেপির দেবতনু ভট্টাচার্য পেয়েছিলেন ৩৬.৭ শতাংশ ভোট। সেবার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মিত্র বাক্সে জমা পড়েছিল মাত্র ১২.১ শতাংশ ভোট। এবার নির্বাচনে তৃণমূল সুকান্ত পালকে ফের প্রার্থী করলেও বিজেপি টিকিট দিয়েছে অমিত সামন্তকে। বাম-কংগ্রেস জোট না হওয়ায় এখানে সিপিএম প্রার্থী দিয়েছে। কাস্তে-হাতুড়ি-তারা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন জসিমউদ্দিন মল্লিক। কংগ্রেস এখনও প্রার্থীর নাম জানায়নি।
নিজের জয় নিয়ে নিশ্চিত তৃণমূল প্রার্থী সুকান্ত পাল। তিনি বলেন, আমতার মানুষ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছেন। উন্নয়নের কাজের নিরিখেই মানুষ ভোট দেবেন। বিরোধীদের পায়ের নীচে মাটি নেই। বিজেপি প্রার্থী অমিত সামন্ত বলেন, এই বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত ভুয়ো ভোটার বাদ গিয়েছে। প্রথমে ২০ হাজারের মতো ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এখনও ‘বিচারাধীন’ রয়েছে সাড়ে ১৪ হাজার মানুষের নাম। তৃণমূল এইসব ভোটারের নাম করে এতদিন ছাপ্পা দিয়ে এসেছে। এবার তা হবে না। তাছাড়া প্রচারে যেভাবে মানুষের সাড়া পাচ্ছি, তাতে আমি নিশ্চিত যে, এবার পদ্মই ফুটবে আমতায়। সিপিআই প্রার্থী জসিমউদ্দিন মল্লিকের কথায়, আমরা সারা বছর সরকারের দুর্নীতি সহ নানা বিষয়ে লড়াই করছি। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ হাজারো সমস্যায় ভুগছেন। বিজেপি এবং তৃণমূলের গোপন আঁতাত সাধারণ মানুষ বুঝে গিয়েছেন। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে বিকল্প হিসাবে আমরাই সরকার গঠন করব। নিজস্ব চিত্র