নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: রয়েছে সমস্ত নথি। ভোটও দিয়েছেন বহুবার। মা, দাদা সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম তালিকায় থাকলেও বাদ গিয়েছেন দুই ভাই। আরামবাগের সুজলপুরের বাসিন্দা মিঠুন দুলে, রামু দুলেরা কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রীর ধরনায় যোগ দিয়েছেন। রবিবার তাঁদের সঙ্গে আরামবাগ পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আরও কয়েকজন ভোটার ধরনায় গিয়েছেন। তাঁদের আশা, ‘ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে দিদি নিশ্চয়ই কোনো রাস্তা বের করবেন।’
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে আরামবাগ মহকুমার এমন বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে ডিলিটেড হয়েছে। বহু ভোটার বিচারাধীন রয়েছেন। বিজেপির চক্রান্তে সাধারণ খেটে খাওয়া ভোটাররা এখন বিপাকে পড়েছেন। তারই প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী ধর্মতলায় ধরনা কর্মসূচি করছেন। দলের নির্দেশে এদিন পাঁচজন ভোটারকে আমরা এদিন কলকাতায় পাঠিয়েছি। আরও কয়েকজনের যাওয়ার কথা রয়েছে।
বিজেপির আরামবাগের বিধায়ক মধুসূদন বাগ বলেন, কোনো ভোটারের নাম তোলা বা বাদ দেওয়া মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়। তৃণমূল মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ভোটারদের নিয়ে গিয়েছে। এসআইআর-এর কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এখানে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই।
আরামবাগের সুজলপুরের বাসিন্দা মিঠুন দুলে চালকলে মজুরের কাজ করেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০০২ সালের তালিকা অনুযায়ী তাঁর প্রয়াত বাবার এপিক নম্বর এখনকার সঙ্গে মেলেনি। এজন্য হিয়ারিংয়ের নোটিস আসে। মহকুমা শাসকের অফিসে দুবার হিয়ারিংয়ে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন। কিন্তু, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে দেখেন তাঁর নাম ডিলিট হয়ে গিয়েছে। একই অবস্থা তাঁর ভাই রামুরও। মিঠুনবাবু বলেন, আমরা তিন ভাই। বড় ভাইয়ের নাম তালিকায় রয়েছে। মা, স্ত্রী, সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নামও রয়েছে। কিন্তু, আমরা দুই ভাই তালিকায় বঞ্চিত হয়েছি। ভোট দিতে পারব কি না, জানি না। দিদির কাছে ধরনা কর্মসূচিতে এসেছি। যদি কোনো রাস্তা বের হয়।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুজলপুরের আরেক ভোটার শ্যামা দুলে পেশায় গাড়ি চালক। তিনিও গিয়েছেন কলকাতার ধরনায়। তাঁর দাবি, তাঁর প্রয়াত বাবার সঙ্গে নামের মিল খুঁজে পায়নি নির্বাচন কমিশন। তার জেরে তিনিও হিয়ারিংয়ে হাজির হন। বাবার এপিক কার্ড জমা দেন শুনানিতে। কিন্তু, তালিকা প্রকাশ হতে দেখা যায় তাঁর মায়ের নাম রয়েছে। কিন্তু, তাঁদের দুই ভাইয়ের নাম ডিলিটেড হয়ে গিয়েছে। তিনিও চান সুষ্ঠুভাবে তালিকায় নাম উঠুক। তাহলে বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এদিন ট্রেনে চেপে তাঁরা কলকাতায় ধরনা কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছেন। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা বিদ্যুৎ রায় বলেন, এই ওয়ার্ডের দুটি বুথে ১৭ জন বৈধ ভোটারের নাম ডিলিট হয়েছে। বিচারাধীন রয়েছেন ৮৮ জন। ধরনা মঞ্চে তোলা নিজস্ব চিত্র।