নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: প্রেমিকাকে খুন করেও কোনও অনুশোচনা নেই দেশরাজের। পুলিশের জেরায় স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে খুনে অভিযুক্ত দেশরাজ। বছর কুড়ির এই যুবকের ভাবলেসহীন মানসিকতা দেখে হতবাক তদন্তকারীরা। খুনের পর পুলিশ হেফাজতে থাকলেও এক মুহূর্তের জন্যও সে ভেঙে পড়েনি। যখনই জেরা করা হচ্ছে মনে হচ্ছে সে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় হয়ে উঠছে।
কোতোয়ালি থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঈশিতা মল্লিক খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে দেশরাজকে একাধিকবার দফায় দফায় জেরা করা হয়েছে। প্রতিবারই পুলিশের প্রশ্নের এক লাইনে জবাব দিয়েছে সে। হিন্দিতে তার সাদামাটা প্রতিক্রিয়া হো গিয়া তো, হো গিয়া। ইতনা শোচা নেহি।’ তার চোখে-মুখে অনুশোচনার কোনও চিহ্ন নেই।
পুলিশি হেফাজতে কোতোয়ালি থানার লকআপে দিব্যি দিন কাটাচ্ছে দেশরাজ। কারও সঙ্গে বেশি কথা বলে না। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ঈশিতাকে খুন করার পর দেশরাজ হাওড়া থেকে ট্রেনে চেপে উত্তরপ্রদেশ পালিয়ে যায়। যাত্রাপথে ট্রেন থেকেই খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ফেলে দেয়। ইতিমধ্যেই জেরার মাধ্যমে জানা গিয়েছে, কোথায় ওই আগ্নেয়াস্ত্র ফেলেছে। পুলিশ এখন ওই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে তৎপর হয়েছে। যদিও পুলিশ দেশরাজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিল। মোবাইলে অতিরিক্ত যুদ্ধের গেম খেলা, অল্পেতে রেগে যাওয়া, অস্বাভাবিক জেদ তার মধ্যে আগে থেকেই ছিল। দেশরাজের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে একই তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমস্ত জায়গা থেকে দেশরাজকে ব্লক করে দিয়েছিল ঈশিতা। তারপরও ঈশিতার সঙ্গে মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল দেশরাজ। এমনকী দেউড়িয়া থেকে বন্দুক এনে তা কোমরে গুঁজে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিল দেশরাজ। তাতে লিখেছিল ‘ডেড বডি সুন’। সেই পোস্টটি তার বন্ধুদের পাঠিয়ে বলেছিল সেটা যেন ঈশিতাকে দেখানো হয়। এমনকী খুনের ঘটনার দিন দুপুরে, ঈশিতার মা বাড়ি থেকে কখন বেরবে তা অপেক্ষা করতে গিয়ে বাড়ির বাইরের দোকান থেকে সিগারেট কিনে খেয়েছিল দেশরাজ। তারপর ঘরের মধ্যে ঢুকে মেঝেতে বসিয়ে সরাসরি ঈশিতার মাথায় গুলি করে দেশরাজ। কিছুক্ষণ সেখানেই অপেক্ষা করে। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে কুসুমদেবীর জন্য অপেক্ষা করছিল। কুসুমদেবী ঘরে ঢুকতেই দেশরাজ এগিয়ে এসে বলে, আন্টি, আপনাকে কিছু বলার আছে।’ কিন্তু, কুসুমদেবী উত্তেজিত হয়ে তাকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেশরাজ তাঁর দিকে বন্দুক তাক করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। যদিও গুলি বেরয়নি। এরপরই সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশি জেরায় দেশরাজ জানিয়েছে, কুসুমদেবীর কাছে ঈশিতাকে খুনের স্বীকারোক্তি দিতেই সে অপেক্ষা করেছিল। পুলিস হেফাজতে ভাবলেশহীন দেশরাজ। কপি অগ্নিভ। (ফাইল ছবি)