Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

দাম বাড়তেই দেশে কমেছে সোনার চাহিদা

বিগত একবছরে রকেট গতিতে উপরের দিকে উঠেছে সোনার দাম। চলতি বছরের প্রথম তিনমাস, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে অতিদ্রুত হারে চড়তে থাকে হলুদ ধাতুর দর।

দাম বাড়তেই দেশে কমেছে সোনার চাহিদা
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিগত একবছরে রকেট গতিতে উপরের দিকে উঠেছে সোনার দাম। চলতি বছরের প্রথম তিনমাস, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে অতিদ্রুত হারে চড়তে থাকে হলুদ ধাতুর দর। যেখানে জানুয়ারির গোড়ায় ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল প্রায় ৭৭ হাজার টাকা, তা মার্চ শেষে পৌঁছে যায় ৯১ হাজারের গণ্ডি। দামের ওই লম্ফঝম্পে দেশজুড়ে কমেছে সোনার সার্বিক চাহিদা। সোনার কয়েন এবং বিস্কুটের বিক্রি কিছুটা বাড়লেও গয়নার সোনার চাহিদা অনেকটাই কমেছে। দাবি করেছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। তবে দাম বেশি থাকায় বিক্রির অঙ্ক সদর্থক ছিল বলে জানিয়েছে তারা।

Advertisement

কাউন্সিলের রিপোর্ট বলছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে গয়না সোনা বিক্রি হয়েছিল ৯৫.৫ টন। এবছর ওই তিনমাসে তা নেমেছে ৭১.৪ টনে। গতবছর ওই সোনা বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকায়। এবার তার চেয়ে অনেকটাই কম সোনা বিক্রি হয়েছে—প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকায়। 
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সোনার দাম যত বাড়ে, খুচরো বিনিয়োগকারীদের এই ধাতুর উপর আস্থা তত চওড়া হয়। তার কারণ, অনেকেই ভাবেন, দাম ভবিষ্যতে আরও বাড়লে তাঁরা লাভবান হবেন। সেই কারণেই বিনিয়োগের লক্ষ্যে সোনা কেনেন তাঁরা। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য সেই মানসিকতারই প্রমাণ দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে দেশে সোনার কয়েন ও বার বিক্রি হয়েছিল ৪৩.৬ টন। এবছর ওই একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৪৬.৭ টন। তবে ওজনের নিরিখে বিনিয়োগের সোনা ও গয়না মিলিয়ে সার্বিকভাবে ১৫ শতাংশ বিক্রি কমেছে। অথচ দামের নিরিখে বিক্রি বৃদ্ধির হার ২২ শতাংশ। 
কাউন্সিলের দাবি, সোনার দাম বাড়লেও, আশাবাদী খুচরো ব্যবসায়ীরা। বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা চলছে, তা দাম বাড়িয়েছে সোনার। অন্যদিকে, আমেরিকার শুল্কযুদ্ধ তাতে ইন্ধন জুগিয়েছে। কিন্তু তারপরও ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎসব কেন্দ্রিক কেনাকাটা এবং বিয়ে বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের মতো শুভ কাজে সোনা কিনবেন ক্রেতারা। সম্প্রতি অক্ষয় তৃতীয়ার ভালো বাজার তার আভাসও দিয়েছে। তাই চলতি বছরের উৎসবের মরশুম এবং মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের বিক্রিবাটায় পরিস্থিতি বদলাবে। বাড়বে সোনার বিক্রি, আশাবাদী তাঁরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ