


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: যে বাংলা ভাষাকে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর ‘ক্ল্যাসিক’ ভাষার স্বীকৃতি দিয়েছে মোদি মন্ত্রিসভা, সেই ভাষাকেই অপমান করলেন অমিত শাহের মন্ত্রকের অধীনস্থ এক পুলিস অফিসার। বাংলার বদলে লিখলেন ‘বাংলাদেশি ভাষা’য় লেখা কিছু নথির ইংরেজি অথবা হিন্দিতে তর্জমা করে দিতে হবে। আর সেই চিঠি দেওয়া হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। দিল্লি পুলিসের এহেন চিঠিতে স্বভাবতই বিতর্কের ঝড় তুলল। ক্ষোভে ফুঁসে উঠল তৃণমূল। বিষয়টি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৪৩ এবং অষ্টম তফসিলকে লঙ্ঘন করছে বলেই সরব হল তারা। আজ সোমবার বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল সংসদে সোচ্চার হবে বলেই জানা গিয়েছে।
ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদি সরকারকে বাংলা বিরোধী বলেই তোপ দেগেছেন। বলেছেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এই ভাষাতেই কথা বলতেন, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় স্তোত্রও বাংলা ভাষাতেই লেখা। আর সেটাকে বাংলাদেশি ভাষা বলা শুধু অপমানই নয়। বিষয়টি অসাংবিধানিক এবং দেশবিরোধী। সমস্ত বাংলাভাষীর এর প্রতিবাদে গর্জে ওঠা উচিত। এই অপমান মোটেই সহ্য করব না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিস কী করে এই কাজ করতে পারে?
ঘটনা হল, বাংলাদেশি সন্দেহে ধরা পড়েছে আটজন। ধরেছে অমিত শাহর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিস। ধৃতদের কাছে যেসব নথি পাওয়া গিয়েছে, তা বাংলায় লেখা। তাই তার ইংরেজি এবং হিন্দিতে তর্জমা করে দিতে হবে। তর্জমা করে দেওয়ার জন্য মিলবে পারিশ্রমিকও। এই ছিল নিভের্জাল মামলা। কিন্তু সেটিতেই বিতর্ক বাড়ালেন নয়াদিল্লির দক্ষিণ ডিস্ট্রিট লোধি কলোনি পুলিস স্টেশনের ইন্সপেক্টর অমিত দত্ত। (যিনি নিজে পাঞ্জাবী) লোধি কলোনি এসএইচও অফিসের লেটারহেডে ছাপা ওই চিঠি পাঠানো হল চাণক্যপুরীর পণ্ডিত উমাশঙ্কর দীক্ষিত মার্গের বঙ্গভবনে।
সূত্রে খবর, চিঠি নিয়ে দিল্লি পুলিসের এক কর্মী পৌঁছন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দিল্লিস্থ অফিসে। সেখানে এরকম বিতর্কিত চিঠি দেওয়ার জন্য ওই কর্মীকে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। বলা হয়, বাংলাদেশি বলে যখন সন্দেহই, তখন বাংলাদেশ হাই কমিশনে না গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কেন চিঠি? যে প্রশ্নের কোনও জবাব দিল্লি পুলিস দিতে পারেনি। এই ঘটনায় বাংলাভাষী হলেই বাংলাদেশি তকমায় বিজেপি শাসিত রাজ্যের একাংশে যে বাঙালিদের ওপর হেনস্তার অভিযোগ চলছে, তাতে ঘৃতাহুতি দিল মোদি সরকার। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেছেন, বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশি ভাষা বলে অপমান কোনওভাবেই মেনে নেব না। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলা ভাষাকে বিজেপি টার্গেট করেছে। বিজেপি বাংলা বিরোধী এবং নিজেদের জমিদার মনে করে। অবিলম্বে ওই তদন্তকারী অফিসার অমিত দত্তকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়ে অভিষেক বলেছেন, অমিত শাহ এবং দিল্লি পুলিসকেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। এদিকে তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে ব্রাত্য বসু ও কুণাল ঘোষ দাবি করেন, এটা শুধু প্রশাসনিক ভুল নয়, বাংলার ও বাঙালির বিরুদ্ধে বড় চক্রান্ত। যে পুলিস কর্তা ওই চিঠিতে সই করেছেন, তাঁকে সাসপেন্ড করতে হবে। চিঠি প্রত্যাহার করে দিল্লি পুলিস ও কেন্দ্রকে ক্ষমা চাইতে হবে। তীব্র সমালোচনা করেছে বামপন্থী দলগুলিও। সরব হয়েছেন জেডিইউ সাংসদ মনোজ ঝা। ক্ষুব্ধ বিশিষ্ট গায়ক রূপম ইসলাম।