নয়াদিল্লি: আইপিএল কি এবার নতুন চ্যাম্পিয়ন পাবে? জোরালো হচ্ছে সেই সম্ভাবনা। পঁচিশের কোটিপতি লিগের গতিপ্রকৃতি তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। পয়েন্ট তালিকার মগডালে গুজরাত টাইটান্স। আট ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে শুভমান গিলরা। তাঁদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে দিল্লি ক্যাপিটালস। ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট অক্ষর প্যাটেলদেরও। তবে নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় আপাতত দ্বিতীয় স্থানে দিল্লি। তৃতীয় স্থানে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। একটা বেশি ম্যাচ খেলে বাগিচা শহরের দলটিও ১২ পয়েন্ট ঝুলিতে পুরেছে। এই অবহে রবিবার ফিরোজ শাহ কোটলায় দিল্লির মুখোমুখি হচ্ছে বেঙ্গালুরু। পয়েন্ট তালিকায় একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার তাগিদ এই ম্যাচের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এবারের আইপিএলে দুই দলের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দলগত সংহতি। তবুও বিরাট কোহলির মতো মহাতারকা যখন ফর্মে থাকেন, তখন বাকি সতীর্থরাও উজ্জীবত হন। বেঙ্গালুরুর ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ ভিকে। পর পর দুই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলকে জেতাতে বড় ভূমিকা নেন তিনি। সেই সঙ্গে দেবদূত পাদিক্কালের মতো তরুণ ক্রিকেটারের মারাকাটারি ব্যাটিং বিপক্ষ দলের বোলারদের দিশাহারা করে দিচ্ছে। ক্যাপ্টেন রজত পাতিদার কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেছিলেন। গত কয়েকটি ম্যাচে অবশ্য বড় রান পাননি তিনি। সেই অভাব ঢাকা পড়ছে টিম ডেভিড, জিতেশ শর্মাদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে। তবে চিন্তা বাড়ছে ফিল সল্টকে নিয়ে। শুরুটা ভালো করেও বার বার উইকেট ছুড়ে দিচ্ছেন তিনি। ইংরেজ ওপেনার এই রোগ সারিয়ে উঠতে পারলে দিল্লির চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হবে। বেঙ্গালুরুর বোলিং অবশ্য আহামরি নয়। তবে জস হ্যাজলউডের বিধ্বংসী ফর্ম বাকিদের দুর্বলতা অনেকটাই ঢেকে দিচ্ছে। পেস আক্রমণে তাঁর সঙ্গী ভুবনেশ্বর কুমার ও যশ দয়াল। স্পিনার সুয়াশ শর্মার সঙ্গে ক্রুণাল পান্ডিয়াকেও খেলানো হচ্ছে।
কথায় আছে একটা দল ততটা ভালো, যতটা তার অধিনায়ক। অক্ষর প্যাটেলের ক্ষেত্রে একথা দারুণভাবে প্রযোজ্য। দুর্দান্ত নেতৃত্বের পাশাপাশি তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিল্লির সাফল্যের ইউএসপি। তাদের ব্যাটিংও বেশ শক্তিশালী। শুরুতে বঙ্গতনয় অভিষেক পোড়েল ঝোড়ো ব্যাটিং করছেন। জ্যাক ফ্রেজার ম্যাকগার্গকে বসিয়ে তাঁর সঙ্গে নামানো হচ্ছে করুণ নায়ারকে। এই জুটি কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে আরসিবি’র বোলারদের। তিন নম্বরে নামছেন লোকেশ রাহুল। তিনিই দিল্লির ব্যাটিং স্তম্ভ। আর প্রয়োজনে উপরের দিকে নেমে দলকে জেতাচ্ছেন অক্ষর। অনেক সময় ট্রিস্টান স্টাবসের উপরও ভরসা রাখছে দল।
এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ দুই অজি পেসারের দ্বৈরথ। বেঙ্গালুরুর হ্যাজলউডের সঙ্গে দিল্লির মিচেল স্টার্কের মনস্তাত্বিক লড়াই জমে উঠবে। গত ম্যাচে ভালো বল করেছিলেন মুকেশ কুমার। তাছাড়া দিল্লির স্পিন আক্রমণও বেশ শক্তিশালী। কুলদীপ যাদবের সঙ্গে ভিপরাজ নিগম কোটলার পিচে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন।