নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বীরভূমের বাসিন্দা তথা বহুজাতিক কোম্পানির চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) আদর্শ লোসালকা খুনের পর পালানোর সময় সময় হোয়াটসঅ্যাপে হোটেলে পাঠানো আধার কার্ড ডিলিট করেছিল অভিযুক্ত তরুণী। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতেই এই কাজ করেছিল সে। ধৃত কমল সাহার মোবাইল পরীক্ষা করে এমনই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে মোবাইলে থাকা অন্য নথিও সে নষ্ট করে ফেলেছে বলে জানা যাচ্ছে।
শুক্রবার রাতে কসবার হোটেলে খুন হন সিএ আদর্শ লোসালকা। তাঁকে খুনের পর রাত দুটো নাগাদ ওই হোটেল থেকে বেরিয়ে যায় কমল সাহা ও তার লিভ ইন পার্টনার ধ্রুব মিত্র। শনিবার বিকেলে এই খুনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রবিবার বিকেলে কসবা থানার সামনে থেকে গ্রেফতার হয় তরুণী কমল ও ধ্রুব। তারা আত্মসমর্পণ করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এরপর ধৃতদের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তারা নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে অত্যন্ত সড়গড়। তারা জানত, যে কোনও ডিজিটাল এভিডেন্স গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায় পুলিশের কাছে। সেই কারণে এই তথ্যপ্রমাণ তারা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত। ধৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, প্রিঅ্যাক্টিভেটেড সিম ব্যবহার করত। প্রতি সাত থেকে দশদিন অন্তর এই সিম ফেলে নতুন সিম কিনত। এমনকি হ্যান্ডসেট বদলে ফেলত। অন্যের নথি নিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। যে নথি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি দিয়ে সিম তুলে অ্যাকাউন্টে লিঙ্ক করা থাকত। তবে ব্যাঙ্কে দেওয়া মোবাইল নম্বর অনলাইন ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে পাল্টে দিত কিছুদিনের মধ্যে। যাতে পুলিশ ওই অ্যাকাউন্টের ট্রেল খুঁজতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে। ধনী যুবকদের সঙ্গে প্রতারণার সময় হোটেলে আধারের হার্ডকপি জমা দিত না। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করে ওই নথি হোটেল ম্যানেজারের মোবাইলে পাঠিয়ে দিত। আর আধারের কপি এতটা অস্পষ্ট রাখত পরিকল্পনা করে। যাতে হোটেল কর্তৃপক্ষ সেটি ডাউনলোড করে স্পষ্ট ছবি না পায়। বেরিয়ে যাওয়ার সময় তা আবার ডিলিট করে দিত। কমল তদন্তকারীদের জানিয়েছে, এই কাজটি সে কসবার হোটেলেও করেছিল। সেখানে ঢোকার সময় হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে আধার পাঠিয়েছিল। রাত দুটো নাগাদ হোটেল ছাড়ার সময় সেটি ডিলিট করে দেয়। যাতে তার নাম ঠিকানা বা মুখের ছবি কিছুই না পায়। মোবাইল ঘেঁটে এর প্রমাণও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তার মেসেজ ডাউনলোড করে রাখেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে মেসেজ রিট্রিভ করিয়ে ওই তরুণীর ডিটেইলস বের করে তার সম্পর্কে তথ্য পান তদন্তকারীরা। এরসঙ্গেই কমল ওই যুবকের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে থাকা তথ্যও ডিলিট করে দিয়েছিল। মোবাইল পরীক্ষা করে আরও নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।