Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মৃত্যুমিছিল! কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআরের হুমকি মমতার

একজন-দু’জন নয়। এসআইআর আতঙ্ক প্রাণ কেড়েছে ১১০ জনেরও বেশি বঙ্গবাসীর। এই মৃত্যুমিছিলের দায় কার? জাতীয় নির্বাচন কমিশন? মোদি সরকার?

মৃত্যুমিছিল! কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআরের হুমকি মমতার
  • ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একজন-দু’জন নয়। এসআইআর আতঙ্ক প্রাণ কেড়েছে ১১০ জনেরও বেশি বঙ্গবাসীর। এই মৃত্যুমিছিলের দায় কার? জাতীয় নির্বাচন কমিশন? মোদি সরকার? নাকি সমগ্র গেরুয়া শিবিরের? ‘তিন পক্ষই বাংলার শতাধিক মানুষের প্রাণহানির জন্য দায়ী’—নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিবসে এই ভাষাতেই গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কেস বা মামলা (এফআইআর) দায়েরের হুঁশিয়ারিও দিলেন বাংলার অগ্নিকন্যা।

Advertisement

শুক্রবার নেতাজির জন্মদিবসে রেড রোডে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে নেতাজির পরিবারের সুগত বসু, চন্দ্র বসুর উপস্থিতিতেই মমতা বলেন, ‘এই এসআইআর ১১০ জনের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে। আতঙ্কে কত মানুষ আত্মহত্যা করেছে! তাহলে কেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কেস হবে না? এই মৃত্যুর দায় নিতে হবে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকেই। আর ওদের পার্টির নাম আমি না-ই বা বললাম। হাসপাতালে আজও জীবনের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ৪০ থেকে ৪৫ জন। এঁদের জীবনের কি কোনো মূল্য নেই?’

ভোটার তালিকা সংশোধনীর কাজে গাফিলতির অভিযোগে রাজ্যের চার আধিকারিকের (দু’জন ইআরও এবং দুই এইআরও) বিরুদ্ধে নবান্নকে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ইস্যুতে চরম সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে রাজ্য ও কমিশনে। উপরন্তু আম জনতার লাগাতার হয়রানি তো রয়েইছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই মমতার মামলা হুঁশিয়ারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এসআইআর আতঙ্কে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে রাজ্য। কিন্তু মানুষের প্রাণের বিনিময়ে কয়েকটা টাকার যে তুলনাই চলে না, সেটাও বারবার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই সূত্রে তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরকেই গোটা ঘটনার নেপথ্য কারিগর হিসাবে দায়ী করেছেন তিনি। তারই রেশ ধরে নেতাজির জন্মদিবসে মমতার আহ্বান, ‘দানবিক এই সরকারকে উপড়ে ফেলতে হবে।’ ‘মানবিক’ সরকার স্থাপন করতে ‘দিল্লি চলো’ ডাক দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, বৈধ ভোটারের নাম বাদ এবং লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির অজুহাতে মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ চলছে। সেই কারণেই কটাক্ষের সুরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নবাণ, ‘দেখে যা মনে হচ্ছে নেতাজি থাকলে তাঁকেও কি শুনানিতে ডেকে পাঠাত কমিশন?’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ