


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: প্রকাশ্য দিবালোকে চন্দননগরে সোনার দোকানে কেপমারির ঘটনায় শুক্রবার চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জমজমাট লক্ষ্মীগঞ্জ বিচালিপট্টির একটি সোনার দোকানে এদিন দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দোকানের মালিক তাপস পাল পুজোর বাসনপত্র ধুতে দোকানের পাশেই রাস্তার কলে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে দোকান থেকে দু’টি ব্যাগে থাকা সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় কেপমাররা। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্তে নেমেছে। স্থানীয় এলাকার সবকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফের সোনার দোকানে কেপমারিকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহল্লায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে হুগলিতে একাধিক জায়গায় সোনার দোকানে কেপমারির ঘটনা ঘটেছে। মাঝে কিছু সময় তা বন্ধ থাকলেও ফের শুরু হলে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের পাকড়াও করা হবে। দোকানের মালিক তাপসবাবু বলেন, আমি প্রতিদিন করাতে দু’টি ব্যাগে করে গয়না বাড়িতে নিয়ে যাই। পরের দিন নিয়ে আসি। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ দোকান খুলে ব্যাগ দু’টি কাউন্টারে রেখে পুজোর বাসন ধুতে পাশের কলে গিয়েছিলাম। তখনই পাশের এক দোকানি বলেন, ‘দুই যুবক দোকানে ঢুকে ব্যাগ নিয়ে চলে গেল। আমি দোকানে ছুটে আসি। দেখি গয়নার ব্যাগ দু’টি নিয়ে গিয়েছে। কারা, কীভাবে নিয়ে গেল, দেখতে পাইনি।’ প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী কেদারনাথ দে বলেন, ‘এক যুবক সকালে দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। তাপস তখন পুজোর বাসন পরিষ্কার করতে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাইকে করে আসে আরও এক যুবক। আমি একটু দূরে বসেছিলাম। ভাবলাম খদ্দের এসেছে। তারপরেই দেখি প্রথম যুবক দোকানে ঢুকে দু’টি ব্যাগ নিয়ে বাইকে বসে পড়ল। আর চালক দ্রুতগতিতে পালিয়ে গেল। সবটাই ঘটেছে খুব দ্রুত। পরিকল্পিত অপরাধ বলেই মনে হচ্ছে।’ বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। তাপসবাবু বলেন, ‘লক্ষাধিক টাকার গয়না খোয়া গিয়েছে।’ লক্ষ্মীগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগে কখনও এমন ঘটনা চন্দননগরের এই এলাকায় হয়নি।