নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাইকোর্টের নির্দেশের পর এক বছর অতিক্রান্ত, তবু সামান্য একটা রিপোর্টও জমা দিতে পারেনি এনআইএ। দাড়িভিট কাণ্ডের তদন্তে গাফিলতির জেরে এবার হাইকোর্টে চূড়ান্ত ভর্ৎসনার মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এনআইএ-র আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে সোমবার ক্ষুব্ধ বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী বলেন, ‘এনআইএ অফিসাররা কি নিজেদের আদালতের ওপরে ভাবছেন? সেরকমটা হলে তাঁদের প্রস্তুত থাকতে বলুন।’
ঘটনা হল, ২০১৮ সালের দাড়িভিটে গুলিবিদ্ধ হয়ে তাপস বর্মন ও রাজেশ সরকার নামে দু’জন মারা যান। পরিবারের অভিযোগ ছিল, পুলিসের গুলিতে তাঁরা নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে এই মামলায় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য ডিভিশন বেঞ্চে যায়। কিন্তু রাজ্যের আবেদনে তদন্তে কোনও স্থগিতাদেশ না দিয়ে উল্টে এনআইএ-কে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনও রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি এনআইএ।
বিচারপতি বলেন, ‘১৪ মাসের তদন্তে অগ্রগতি কোথায়? এনআইএ অফিসার কি নিজেদের আদালতের ওপরে ভাবছেন? এক বছর আগে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল। একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার যদি এই ভূমিকা হয়, তাহলে অফিসারদের তৈরি থাকতে বলুন। আদালত যথাযথ ব্যবস্থা নিতে জানে।’
এনআইএর আইনজীবী অবশ্য রাজ্যের ঘাড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। বলেন, ‘পুলিস ত্রুটিযুক্ত তদন্ত প্রক্রিয়া করেছে। গুলিতে মৃত্যু হয়েছে, অথচ সেই গুলিও পদ্ধতি মেনে সংরক্ষণ করা হয়নি’। এরপর বিচারপতি বলেন, ‘কোনও অজুহাত খাড়া করার চেষ্টা করবেন না। আদালতের নির্দেশ পালন করা হয়নি।’ শেষ পর্যন্ত এনআইএ-কে ৯ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আদালত। ওইদিনের মধ্যে তাদের তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তেমনটা না করলে কড়া পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।



