পাটনা: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় চরম অবহেলা! ধর্ষিতা দলিত নাবালিকা পড়ে রইল বিনা চিকিৎসায়। শেষে মর্মান্তিক মৃত্যু। এই ঘটনায় তোলপাড় ভোটমুখী বিহার।
পাটনা: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় চরম অবহেলা! ধর্ষিতা দলিত নাবালিকা পড়ে রইল বিনা চিকিৎসায়। শেষে মর্মান্তিক মৃত্যু। এই ঘটনায় তোলপাড় ভোটমুখী বিহার।
২৬ মে মুজফফরপুরে ন’বছরের মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। তারপর ছুরি দিয়ে কেটে দেওয়া হয় গলা। অভিযোগ, গুরুতর জখম ওই নির্যাতিতাকে পাটনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে দীর্ঘক্ষণ বিনা চিকিত্সায় ফেলে রাখা হয়। পুলিসের বিরুদ্ধেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বিহার সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পান্ডের পদত্যাগ দাবি করেছে হাত শিবির। পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাবারের লোভ দেখিয়ে ওই নাবালিকাকে তুলে নিয়ে যায় রোহিত সাহনি নামে এক মাছবিক্রেতা। নাবালিকাকে ভুট্টাখেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে সে। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে নির্যাতিতার গলা কেটে দেয় অভিযুক্ত। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় নির্যাতিতাকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু একরত্তি মেয়েটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হিমশিম খেতে হয় পরিবারকে। নির্যাতিতার কাকা জানিয়েছেন, তাঁদের কেউ অ্যাম্বুলেন্স দিতে চাইছিল না। দু’ঘণ্টা পর একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে নির্যাতিতাকে প্রথমে মুজফফরপুরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান অবস্থার অবনতি হওয়ায় নির্যাতিতাকে পাটনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু সেখানে পাঁচ ঘণ্টা কোনও চিকিত্সা ছাড়াই ফেলে রাখা হয়। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নাবালিকার পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত এলাকায় প্রভাবশালী বলে পরিচিত। ঘটনার পর তাঁরা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিস প্রথমে শুধু আক্রমণের অভিযোগ দায়ের করেই দায় সেরেছিল। পরে তাঁরা মুজফফরপুর মহিলা থানায় গেলে ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়।
রাহুল গান্ধী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘মুজফফরপুরে দলিত নাবালিকার উপর বর্বর অত্যাচার ও তার চিকিৎসায় অবহেলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ডাবল-ইঞ্জিন সরকার কেবল নিরাপত্তা দিতে নয়, তার জীবন বাঁচাতেও অবহেলা করেছে।’ রাহুল আরও লিখেছেন, ‘নির্যাতিতা বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা চুপ করে বসে থাকব না।’