সিনেমার সমালোচনা: প্রজাপতি ২
সিনেমার সমালোচনা: প্রজাপতি ২
দেব, মিঠুন চক্রবর্তী, খরাজ মুখোপাধ্যায়, অনুমেঘা কাহালি
‘... বড় হয়ে বাবার মতো হলে।’
বাবার মতো কীভাবে হতে হয়, তা প্রতিদিন শিখছেন জয় (দেব)। তিনি সিঙ্গল ফাদার। বাবা গৌরের (মিঠুন চক্রবর্তী) মতো ‘ভালো’ বাবা হয়ে ওঠা জয়ের লক্ষ্য। গৌর রয়েছেন কলকাতায়। আর লন্ডনে মেয়ে মিমমিমকে (অনুমেঘা) নিয়ে জয়ের সংসার। স্ত্রীর মৃত্যুর পর ভেঙে পড়ার অবকাশ মেলেনি তাঁর। মেয়েকে বড় করতে হবে তো! সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানো, খুনসুটি, ভালো মুহূর্তের কোলাজে এগিয়ে চলেছে জীবন। কিন্তু বাবা নাছোড়বান্দা। ছেলের আবার বিয়ে দিতে চান তিনি। কিন্তু বাবার পরামর্শে কর্ণপাত করেন না পেশাগত সমস্যায় জর্জরিত জয়। তাঁর দু’চোখে স্বপ্ন— পরিবারকে ভালো রাখার। হোটেল তৈরি করার। দুঃসময়ে ছেলের পাশে দাঁড়ান বাবা। লড়াইয়ে সাহস জোগান প্রতিনিয়ত। ‘প্রজাপতি ২’ এই বাবা-ছেলের রসায়নের গল্প। ভালো-মন্দ মিশিয়ে মুখে হাসি ফোটানোর কাহিনি।
‘মধ্যবিত্ত পরিবার শুধু টাকায় চলে না। আবেগেও চলে।’ ছবির সংলাপ প্রযোজ্য বাস্তবেও। দেবের এই ছবি আদ্যোপান্ত পারিবারিক। কমেডি এবং ইমোশনের সঠিক মিশ্রণ পরিচালক অভিজিৎ সেনের দক্ষতা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ‘টনিক’, ‘প্রজাপতি’, ‘প্রধান’— প্রতিটি ছবির স্বাদ পাবেন এবারও। আরও বড় মাপে। বড়পর্দায় লন্ডনকে দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। মনে থাকবে ছবির সংলাপ। বুদ্ধিদীপ্ত, তুখোড়, স্মার্ট। গোটা ছবি জুড়ে মুখে হাসি লেগেই থাকবে। আবার কয়েকটি দৃশ্যে চোখে জলও আসবে। এখানেই বাজিমাত করেছেন অভিনেতারা।
প্রথমেই বলতে হয় দেবের কথা। কমার্শিয়াল ‘হিরো’ এখানে সম্পূর্ণ রক্তমাংসে গড়া সাধারণ বাবা। দেবের অভিনয় শিক্ষণীয়। প্রশংসনীয় তাঁর অধ্যবসায়ও। বহুদিন পর পারিবারিক ছবিতে দেবের এন্ট্রি সিন দুরন্ত লাগল। নায়কের মেয়ের চরিত্রে অনুমেঘা অনবদ্য। তার উচ্চারণ, অভিনয়, সংলাপ বলা— অপূর্ব। দেব ও মিঠুন চক্রবর্তীর রসায়ন অতুলনীয়। খরাজ মুখোপাধ্যায়, অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিকের অভিনয় এই ছবিকে আলাদা অক্সিজেন জুগিয়েছে। ভিলেন হিসেবে অনির্বাণ চক্রবর্তীও দুর্দান্ত। স্বল্প পরিসরে রয়েছেন ইধিকা পাল। নবাগতা জ্যোর্তিময়ী কুণ্ডু যথাযথ। আলাদা করে বলতে হয় পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা। দেবের সঙ্গে তাঁর কেমিস্ট্রি ছবিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। মন ছুঁয়ে যায় জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মিউজিকও। ‘দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাক, স্বপ্নকে মরতে দিবি না। তোর বাবা এখনও বেঁচে আছে’— এই সংলাপই বলে দেয় বাবারা আসলে এমনই। এ ছবিও বাবাদের।
শান্তনু দত্ত