


সংবাদদাতা, কল্যাণী: বাংলার দোলযাত্রার প্রসঙ্গ উঠলে নদীয়ার কথা ওঠেই ওঠে। নবদ্বীপ, মায়াপুরের দোলের কথা আগে ওঠে। পাশাপাশি ওঠে কল্যাণীর ঘোষপাড়ার সতীমায়ের দোলমেলার প্রসঙ্গও। শান্তিনিকেতনে যেমন হয় বসন্ত উৎসব যেমন বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে দোলের মেলা বসে তেমনই বসে সতীমায়ের মেলা। তার খুব নামডাক।
কথিত, আউলিয়া সম্প্রদায়ের সতীমা অর্থাৎ সরস্বতী দেবী এই মেলা শুরু করেছিলেন। তা প্রায় দু’শো বছর হয়ে গেল। তখন থেকে হয়ে চলেছে সতীমায়ের দোলমেলা। তা এখন বেশ জনপ্রিয়। উপচে পড়ে ভিড়। এবারও বিভিন্ন জেলা থেকে ভক্তরা দলে দলে এসেছেন। মেলা প্রাঙ্গণে একাধিক আখড়া বসে আউল, বাউল, ফকির, সন্ন্যাসীদের। গোটা রাত চলে ভাবের গান। মেলা পরিচালনার দায়িত্বে কল্যাণী পুরসভা।
এবার ছোটো-বড়ো মিলিয়ে প্রায় হাজারটি দোকান বসেছে। এসেছে নাগরদোলা, মরণকুয়ো ইত্যাদি। মেলা চলবে দশদিন। কল্যাণী পুরসভার চেয়ারম্যান নীলিমেশ রায়চৌধুরী বলেন, ‘দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা হয়েছে।’ সতীমায়ের মন্দিরের কাছেই আছে একটি ডালিম গাছ। ডালিমতলায় হয় পুজো। গাছটি প্রায় দু’শো বছরের প্রাচীন। এছাড়াও আছে দুধসাগর নামে একটি পুকুর। সেখানে স্নান করে ভক্তরা দণ্ডী কেটে মন্দিরে যান। তারপর ডালিম গাছে ঢিল বাঁধেন। বিশ্বাস, এতে পূরণ হয় মনস্কামনা। পুজোর ডালিতে থাকে খই-বাতাসা-মঠ। ডালিতে ঢিলের বদলে থাকে সুতো বাঁধা মাটির ঘোড়া।
কথিত, কর্তাভজা সম্প্রদায়ের প্রবর্তক হলেন নদীয়ার ঘোষপাড়ার আউলচাঁদ। ভক্তরা তাঁকে গোরাচাঁদ নামে ডাকেন শ্রীচৈতন্যের অবতার হিসেবে তাঁকে মানা হয়। ঘোষপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন রামচরণ পাল। তাঁর স্ত্রী হলেন সরস্বতী। একবার স্ত্রী মরণাপন্ন। আউলচাঁদ দুধসাগর পুকুর থেকে মাটি এনে স্ত্রীর শরীরে লেপেছিলেন। সুস্থ হয়ে ওঠেন সরস্বতী। তারপর বাড়ির ডালিম গাছের নীচে সাধনা শুরু করেন। দীর্ঘ সাধনার পর সরস্বতী হয়ে ওঠেন দেবী। হয়ে ওঠেন সকলের সতীমা। তাঁর নামেই প্রতিবছর বসছে দোল পূর্ণিমার মেলা।
এছাড়া কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকসংস্কৃতি বিভাগে সোমবার হল ‘বসন্ত উৎসব’। বিভাগের প্রাঙ্গণে হয় আবির খেলা। ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কল্লোল পাল। এছাড়াও ছিলেন শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা। -নিজস্ব চিত্র