


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাটির নীচে পানীয় জল সরবরাহের পাইপলাইন ফেটে বিপত্তি। গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশনের সামনে রাস্তার নীচে থাকা পুরসভার জল সরবরাহের পাইপলাইন ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছে। সেটি মেরামত করার তোড়জোড় চলছে। কিন্তু পুরসভা সূত্রে খবর, মেরামতের কাজ দ্রুত করা যাচ্ছে না। কারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাটির তলায় থাকা মেট্রোর কংক্রিটের আস্তরণ। সেই কংক্রিটের স্ল্যাব এবং পানীয় জলের পাইপলাইনের মধ্যবর্তী অংশে গ্যাপ বা ফাঁকা জায়গা সেভাবে না থাকার ফলে পাইপ লাইনের ফাটল ধরা অংশ মেরামত করতে সমস্যা হচ্ছে। যদিও সোমবার রাত থেকে মেরামতের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। অন্যদিকে উল্টোডাঙা অঞ্চলেও পানীয় জলের লাইনে লিকেজ ধরা পড়েছে। নিয়মিত জল বের হচ্ছে রাস্তায়। কিন্তু ব্যস্ত দিনে রাস্তার মধ্যবর্তী স্থানে জলের লাইনে ফাটল ধরায় মেরামত করার কাজে হাত লাগানো যায়নি।
কলকাতা পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগ সূত্রে খবর, গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে গিরিশ পার্কে ফাটল ধরা পড়ে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হওয়ায় সপ্তাহের ব্যস্ত দিনে কাজে হাত দেওয়া যায়নি। পুলিশের অনুমতিও পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার রাতে কাজে নামে পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগ। খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে দেখা যায়, মাটির তলায় পানীয় জল সরবরাহের ১৬ ইঞ্চি চওড়া পাইপলাইনের একটি অংশ ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছে। সেখান দিয়ে অনবরত জল বের হচ্ছে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, এত বড়ো এবং মোটা পাইপ এই মুহূর্তে পুরসভার স্টকে নেই। পাওয়াও সময়সাপেক্ষ। তাই ঠিক হয়েছে ওই অংশ মোটা লোহার পাতে জ্যাকেটিং বা মুড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। যেখানে পাইপ রয়েছে তার তলায় মেট্রো রেলের স্ল্যাব বা কংক্রিটের স্তর পাওয়া গিয়েছে। এখন সেই স্ল্যাব খানিক ভাঙতে হবে। তা না হলে জ্যাকেটিং করা সম্ভব নয়। ওই আধিকারিক আরও বলেন, মেট্রো রেলের স্ল্যাব বা কংক্রিটের আস্তরণ বলতে মেট্রো পথের ছাদ নয়। তার বাইরেও কংক্রিটের কাঠামো থাকে, তেমনটাই ওখানে রয়েছে। সেটা খানিকটা কেটে জলের লাইনের তলা দিয়ে লোহার পাত লাগিয়ে পাইপ লাইনের ফাটল ধরা অংশ মেরামত করতে হবে। কাজ খানিকটা জটিল হওয়ায় পাইপলাইন মেরামতিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবুও চেষ্টা চলছে আগামী দু-একদিনের মধ্যেই কাজ শেষ করার।
অন্যদিকে উল্টোডাঙা মেইন রোডেও মাটির তলায় জলের লাইনে লিকেজ ধরা পড়েছে। বিধাননগর রোড স্টেশন থেকে হাডকো মোড়গামী পথে আইল্যান্ডের পাশে রাস্তার মাঝে তৈরি হয়েছে গর্ত। সেখানে জল বের হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। ব্যস্ত দিনে রাস্তার মাঝে খোঁড়াখুঁড়ি করে কাজ সম্ভব নয়। পুলিশের অনুমতি মেলে না। তাই খানিকটা দেরি হচ্ছে। এখন খুব একটা জলের সমস্যা নেই। গরমকালে হলে সমস্যা হত। তবে পথচলতি মানুষের সমস্যা হয়। বিশেষ করে বাইক জলভর্তি গর্তে পড়তে পারে। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জলের পাইপলাইনের মেরামতি করে রাস্তা সারাই করার চেষ্টা চলছে। পাইপ ফেটে বেরচ্ছে জল।-নিজস্ব চিত্র