নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর, ২৭জন মাওবাদী নিধনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাল সিপিএমের পলিটব্যুরো। আর এতেই প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে, পার্টির কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে। প্রশ্ন উঠছে, এককালে এই মাওবাদীদের আক্রমণে সিপিএম কর্মীরা প্রাণ হারিয়েছেন। এবার কিনা সেই সিপিআই (মাওবাদী)র সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজুর মৃত্যুতে নিন্দা জানাল সিপিএম? এই প্রশ্নেই দ্বিধাবিভক্ত পার্টির কর্মী-সমর্থকরা।
বুধবার ছত্তিশগড়ে মাওবাদী নিধন নিয়ে সিপিএমের তরফে কোনও বিবৃতি ছিল না। সিপিআই, সিপিআই(এমএল) ঘটনার নিন্দা করেছিল। সেই সময় সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ সমাজমাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, এককালে কীভাবে মাওবাদীরা সিপিএম নিধন করেছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকেও আক্রমণ করেছিল এই মাওবাদীরাই। বৃহস্পতিবার সিপিএমের পলিটব্যুরো বিবৃতি দিয়ে বলে, মাওবাদীদের তরফে বারবার আলোচনায় বসার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ও ছত্তিশগড়ের বিজেপি সরকার সেই পথে না হেঁটে, অমানবিক হত্যালীলার আশ্রয় নিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মাওবাদীদের সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, আমরা সরকারের কাছে এই অপারেশন থামিয়ে আলোচনার পথে আসার আবেদন করছি।
পার্টির একাংশ বলছেন, মাওবাদীদের ক্ষমা করার প্রশ্ন ওঠে না। পার্টির অপর একাংশের বক্তব্য, গণআন্দোলনের নামে হত্যালীলা অন্যায়। আবার এভাবে আলোচনায় না বসে গুলি করে মেরে দেওয়াও মেনে নেওয়া যায় না। সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য তথা প্রাক্তন সাংসদ রামচন্দ্র ডোম বলেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিস্কার। আমরা মাওবাদীদের সন্ত্রাস সমর্থন করি না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব এটা সমাধান করা। কিন্তু সমাধান মানে গণহত্যা নয়। মাওবাদীরাও আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাব নিচ্ছে না কেন? একবছরে মৃত সকলেই কী মাওবাদী? এটা কোনও সভ্য দেশে হয় না। আমরা তো মাওবাদীদের এই কার্যকলাপের সবচেয়ে খারাপ শিকার।’