


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দোলের দিন দুপুরে পাড়াতেই মারপিট হচ্ছিল দু’পক্ষের মধ্যে। তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দু’পক্ষকে মারপিট বন্ধ করে শান্ত হতে বলেছিলেন এক আইনজীবী। আর যায় কোথায়! তিনি ‘জ্ঞান’ দেওয়ার কে— এই প্রশ্ন তুলে পাল্টা তাঁকেই বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল এক গোষ্ঠীর দিকে। শুধু তাই নয়, আইনজীবীর মাকে ঘরে আটকে রেখে পুড়িয়ে মারারও হুমকি দিয়েছে তারা। এই গোষ্ঠীর লোকজন আবার কাউন্সলোরের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গিয়েছে। বরানগরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আইনজীবীর দাবি, শনিবার তিনি বরানগর থানায় সাতজনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিস কোনও পদক্ষেপ করেনি। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কি পুলিস ঠুঁটো হয়ে রয়েছে? পুলিস জানিয়েছে, আইন মেনেই তদন্ত চলছে।
বরানগরের বাসিন্দা শুভেন্দু মিত্র বারাকপুর আদালতের আইনজীবী। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলামাতা লেনে তাঁর ভাইয়ের বাড়ি। দোলের দিন বেলা সাড়ে ৩টে নাগাদ তিনি নিজের অফিসে যাচ্ছিলেন। ওই সময় মান্নাপাড়া রোডে স্থানীয় কাউন্সিলার শম্পা কুণ্ডুর ঘনিষ্ঠরা দলেরই কয়েকজন কর্মীকে মারধর করছিল বলে অভিযোগ। সকলে পরিচিত হওয়ায় তিনি বাইক থামিয়ে মারপিট বন্ধ করতে বলেন। তাতে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে ওই যুবকরা। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাঁর বৃদ্ধা মাকে ফ্ল্যাটের মধ্যে পুড়িয়ে মারবে। অভিযোগ দায়ের হলেও এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস।
শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘ওরা হুমকি দিয়ে বলে, থানায় অভিযোগ করলে হয়তো আমাদের গ্রেপ্তার করবে। তবে জেল থেকে বেরিয়ে আবার মারব। আমরা কাউন্সিলারের লোক। কেউ কিছু করতে পারবে না।’ কাউন্সিলার শম্পা কুণ্ডু বলেন, ওয়ার্ডের সমস্ত বাসিন্দা আমার ঘনিষ্ঠ। কী ঘটেছে, তা বলতে পারব না। পুলিস তদন্ত করে আইনানুগ পদক্ষেপ করবে। এবিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।
বরানগরে আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় বারাকপুর বার অ্যাসোসিয়েশনেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশান্ত রায় বলেন, এ বিষয়ে বারে আলোচনা করে পদক্ষেপ করা হবে।