Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সমবায়ের কোটি টাকা ‘গায়েব’, পরিবার সহ বেপাত্তা ম্যানেজার

সমবায় সমিতি থেকে প্রায় কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’ করে সপরিবারে বেপাত্তা ম্যানেজার। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি হাবড়ার আনোয়ারবেড়িয়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির।

সমবায়ের কোটি টাকা ‘গায়েব’,  পরিবার সহ বেপাত্তা ম্যানেজার
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সমবায় সমিতি থেকে প্রায় কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’ করে সপরিবারে বেপাত্তা ম্যানেজার। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি হাবড়ার আনোয়ারবেড়িয়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির। সোমবার প্রতারিতরা হাবড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিস জানিয়েছে, বেপাত্তা অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে, জেলা সমবায় দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রতারিতরা।

Advertisement

উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় রয়েছে কয়েকশো সমবায় সমিতি। বোর্ড সদস্যরাই সমিতি পরিচালনা করেন। কিন্তু নিয়ম না মেনে, জেলার সিংহভাগ সমবায় সমিতি পরিচালিত হয় ব্যক্তিগত মালিকানায়। অভিযোগ, জেলা সমবায় দপ্তরের নজরদারি ঠিকমতো না হওয়ায় প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। বহু সমবায় সমিতির নির্বাচন হয়নি। ফলে বোর্ড গঠনও হয়নি। আর এই বোর্ড গঠন না হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি গ্রাহকদের। তেমনই ঘটনা ঘটল হাবড়ার ক্ষেত্রেও। গত কয়েক বছর ধরেই হাবড়ার আনোয়ারবেড়িয়া গ্রামে চলছিল আনোয়ারবেড়িয়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি। সমিতি চালাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল হক। তাঁর স্ত্রী ফরিদা বিবি ও তিন ছেলে আলামিন, রুহুল আমিন, আনিসুর মণ্ডল। গ্রামের শতাধিক গ্রাহক এখানে টাকা রাখতেন। সেভিংসের পাশাপাশি ফিক্সড ডিপোজিট করা হতো। দুই থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা করেও গ্রাহকরা জমিয়েছেন। গচ্ছিত টাকার পরিমাণ কয়েক কোটি। কয়েকমাস আগে সমবায় সমিতিতে তালা ঝুলিয়ে ম্যানেজার রবিউল হক সপরিবারে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে। গ্রাহকরা সে কথা জানার পরেও আশায় ছিলেন, রবিউল হয় তো ফিরে আসবে। ফেরত হবে টাকা। কিন্তু কয়েকমাস পরও তারা আর ফেরেনি। প্রতারিত বুঝতে পেরেই সোমবার গ্রাহকরা একজোট হয়ে হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 
প্রতারিত মঞ্জুরা বিবি বলেন, আমি স্বামীহারা। ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকি। ছেলে অটো চালায়। জমি কেনার জন্য তিল তিল করে সমবায়ে টাকা জমাচ্ছিলাম। পোস্ট অফিসের টাকা তুলে এখানে রাখি। প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা গায়েব। আর এক প্রতারিত মহম্মদ ইলিয়াস মণ্ডল বললেন, আমরা ভেবেছিলাম রবিউল ফিরবে। এখন আমরা শুনছি ম্যানেজার রবিউল নিজেদের সম্পত্তি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে মর্টগেজ রেখে টাকাপয়সা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। আমরা থানার দ্বারস্থ হয়েছি। এনিয়ে কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছেন জেলা সমবায় দপ্তরের আধিকারিক দেবলীনা হাজরা। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গ্রাহকদের প্রশ্ন, এতদিন ধরে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করল সমবায়ের ম্যানেজার। তারপরেও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারল না দপ্তর। তাহলে কি ‘সর্ষের মধ্যেই ভূত’ আছে প্রশ্ন গ্রাহকদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ