Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১০০ দিনের কাজের বকেয়া মেটায়নি কেন্দ্র, ভিডিও রেকর্ড করে আত্মঘাতী ঠিকাদার, বিপুল ঋণের বোঝায় জেরবার হয়ে চরম সিদ্ধান্ত

১০০ দিনের কাজের বকেয়া মেটায়নি কেন্দ্র, ভিডিও রেকর্ড করে আত্মঘাতী ঠিকাদার, বিপুল ঋণের বোঝায় জেরবার হয়ে চরম সিদ্ধান্ত
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একশো দিনের কাজ বন্ধ। ২০১৮ সাল থেকেই কাজের টাকা বকেয়া রয়েছে। লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণের বোঝা চাপছিল মাথার উপর। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতেই আত্মঘাতী হয়েছেন একশো দিনের কাজের প্রকল্পের এক ঠিকাদার। ঘটনাটি ঘটেছে জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়ায়। মৃতের নাম রাকেশ চন্দ্র (৩৩)। মৃত্যুর আগে নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও রেকর্ড করে তাঁর অসহনীয় অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করার পর তাঁর ফোন পরীক্ষা করতে গিয়ে ভিডিওটি মেলে। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

Advertisement

মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু বছর ধরেই সরকারি প্রকল্পের কাজে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন রাকেশ। গত কয়েক বছর ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থমকে থাকায় তাঁর বকেয়া প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা আটকে যায়। এরপর নিজের ব্যবসার জন্য অনেকের কাছ থেকে টাকা ধার করেন তিনি। বেশ কিছুদিন আগে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছ থেকেও কয়েক লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। সম্প্রতি সেই চিকিৎসক নাকি টাকা ফেরতের জন্য বারবার চাপ দিচ্ছিলেন রাকেশকে। পাশাপাশি প্রায়দিনই অন্যান্য পাওনাদাররাও বাড়িতে এসে টাকা দাবি করতেন। মৃতের মা রাখি চন্দ্র বলেন, ‘ওই ডাক্তারের কাছ থেকে ছেলে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়েছিল। অথচ সেই ডাক্তার ২৫ লক্ষ টাকা দিয়েছেন বলে ছেলেকে চাপ দিচ্ছিলেন।’ বৃহস্পতিবার রাতে কাজ থেকে ফিরে বাড়িতেই ছিলেন রাকেশ। গভীর রাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন। সকালে মা নিজের ছেলের ঝুলন্ত দেহ দেখে চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মৃতের মোবাইল ফোন থেকে একটি ভিডিও পেয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে ফোনে ভিডিও রেকর্ডিং করে পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কথা জানিয়েছিলেন রাকেশ। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘এদিন বিকেল পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। ভিডিওটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’ 
জগৎবল্লভপুর ব্লক এমজিএনআরজিএ ভেন্ডর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহম্মদ আজাদ বলেন, ‘২০২০ সাল পর্যন্ত ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে সেই টাকা বাকি রয়েছে। রাকেশেরও অনেক টাকা বকেয়া ছিল। প্রত্যেকেই আমরা সমস্যার মধ্যে রয়েছি। কিন্তু ওর এই ধরনের চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হয়নি।’ প্রতিবেশীরা বলেন, ‘ছেলের মৃত্যুর পর বৃদ্ধা মা কীভাবে দিন কাটাবেন, কেউ জানে না। ছেলের ঋণের বোঝা মায়ের পক্ষে তো মেটানো সম্ভব নয়। সরকার বকেয়া মেটালে পরিবারের অন্তত সুরাহা হয়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ